লক্ষ্মীপুরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে খাওয়ার টেবিলে আসন গ্রহণকে কেন্দ্র করে বর ও কনেপক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তুচ্ছ এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আনন্দঘন পরিবেশ মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নেয়। দুপক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মো. হারুনের বাড়িতে এ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতরা হলেন—ইব্রাহিম খলিল, মো. অনিক, মেহেদী হাসান আনন্দ, মো. রানা, মো. ইয়ামিন, মো. সামজিদ ও মো. শাহ আলমসহ আরও কয়েকজন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের মেয়ে ছামিয়া আক্তারের সঙ্গে টুমচর ইউনিয়নের ফারুক হোসেনের বিয়ে সম্পন্ন হয়। শনিবার বরপক্ষের বাড়িতে বৌভাত অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিল। দুপুরে কনেপক্ষের লোকজন বরপক্ষের বাড়িতে উপস্থিত হলে শুরু হয় মধ্যাহ্নভোজ। খাওয়ার টেবিলে বসা নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পক্ষ উত্তেজিত হয়ে ওঠে।
কনেপক্ষের অভিযোগ, খাওয়ার সময় বরপক্ষের কিছু লোক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চেয়ার দখল করে দাঁড়িয়ে ছিল। এ নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হলে বরপক্ষের লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে কনেপক্ষের বেশ কয়েকজন রক্তাক্ত জখম হন। সংঘর্ষ চলাকালে কনেপক্ষের একটি মাইক্রোবাস ভাঙচুর করারও খবর পাওয়া গেছে।
ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. শাহ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “সামান্য বসা নিয়ে কথা-কাটাকাটি থেকে ঘটনার সূত্রপাত। পরে তা বড় ধরনের মারামারিতে রূপ নেয়।” তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরপক্ষের কোনো সদস্য মন্তব্য করতে রাজি হননি।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ জানান, “বিয়েবাড়িতে সংঘর্ষের খবর আমরা পেয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকেই লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বর্তমানে ওই এলাকায় এ ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ বলছেন, বিয়েবাড়ির মতো আনন্দপূর্ণ অনুষ্ঠানে এমন তুচ্ছ কারণে রক্তপাত অত্যন্ত দুঃখজনক।


