লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের বেহাত হওয়া ভূসম্পত্তি ও স্থাপনা পুনরুদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব সাহাব উদ্দিন সাবু। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জনস্বার্থ রক্ষায় অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করা হবে; এ ক্ষেত্রে কোনো প্রকার রাজনৈতিক প্রভাব বা তদবির আমলে নেওয়া হবে না।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলায় জেলা পরিষদের বিভিন্ন স্থাপনা সরেজমিন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। পরিদর্শনের শুরুতেই রামগঞ্জ উপজেলার ‘জিয়া শপিং কমপ্লেক্সে’ নকশা বহির্ভূত ও বিধিবহির্ভূতভাবে নির্মিত ১৩টি দোকানের নির্মাণকাজ তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধের নির্দেশ দেন প্রশাসক।
পরিদর্শনকালে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম উপস্থিত ছিলেন। তিনি জেলা পরিষদের এই শুদ্ধি অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে পরিষদের শ্রী বৃদ্ধিতে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সাহাব উদ্দিন সাবু বলেন, “বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহল জেলা পরিষদের অঢেল সম্পত্তি জবরদখল করে রেখেছিল। ‘রাতের ভোটে’ নির্বাচিত সরকারের ছত্রছায়ায় এসব সম্পদ ভোগদখল করায় দীর্ঘ বছর যাবৎ সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এই আর্থিক রক্তক্ষরণ আর চলতে দেওয়া হবে না।”
জেলা পরিষদকে আধুনিক ও জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের পরিকল্পনা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উন্নয়ন দর্শনের আলোকে লক্ষ্মীপুরের চারটি সংসদীয় আসনেই টেকসই উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো অনিয়ম ও দুর্নীতিমুক্ত একটি ‘মডেল জেলা পরিষদ’ গড়ে তোলা।”
প্রশাসক আরও উল্লেখ করেন, উদ্ধারকৃত জমি থেকে সংগৃহীত বর্ধিত রাজস্ব দিয়ে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নসহ সকল ধর্মের উপাসনালয় ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার কাজে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুন নাহার, রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী আতিকুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোজাম্মেল হক মজু এবং রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী।
এছাড়া জেলা পরিষদের ঊর্ধ্বতন কারিগরি কর্মকর্তা এবং উপজেলা প্রশাসন ও বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অভিযানে উপস্থিত ছিলেন।


