গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত, নিবন্ধন নং ১১৪
  1. অন্যান্য
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. আইন-বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চাকরি
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম
  12. নির্বাচন
  13. প্রবাসের খবর
  14. ফিচার
  15. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  16. বিনোদন
  17. বিশেষ প্রতিবেদন
  18. রাজনীতি
  19. শিক্ষাঙ্গন
  20. শেখ হাসিনার পতন
  21. সম্পাদকীয়
  22. সারাদেশ
  23. স্বাস্থ্য
  24. হট আপ নিউজ
  25. হট এক্সলুসিভ
  26. হাই লাইটস

এক দিনের ছুটি নিয়ে ১০ বছর ‘নিখোঁজ’ দুই চিকিৎসক, ভোগান্তিতে ৪ লাখ মানুষ

তাবারক হোসেন আজাদ
এপ্রিল ২৩, ২০২৬ ৯:২১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

এক দিনের ছুটি নিয়েছিলেন ১০ বছর আগে। সেই এক দিন গড়িয়ে এখন ১০ বছর পার হতে চললেও কর্মস্থলে ফেরেননি তাঁরা। সরকারি নথিতে পদগুলো দখল করে থাকলেও বাস্তবে তাঁরা ‘নিখোঁজ’। লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুই চিকিৎসকের এমন কাণ্ড কেবল বিস্ময়করই নয়, বরং দেশের স্বাস্থ্য খাতের প্রশাসনিক নজরদারির কঙ্কালসার অবস্থাকেই উন্মোচিত করেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, এই দুই চিকিৎসক হলেন—জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অর্র্থোপেডিক) আবুল কাশেম মহিউদ্দিন এবং উপজেলার সাইচা উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার কাজী সামসুদ্দোহা। ২০১৫ সাল থেকে তারা কর্মস্থলে অনুপস্থিত। গত এক দশকে একাধিকবার কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। এমনকি তাঁদের স্থায়ী ঠিকানায় পাঠানো চিঠিপত্রও ‘প্রাপক নেই’ মর্মে ফেরত এসেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৬ এপ্রিল অর্থোপেডিক চিকিৎসক হিসেবে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগ দেন আবুল কাশেম মহিউদ্দিন। এর কয়েক মাস পরেই ১৩ জুলাই তিনি পারিবারিক কারণ দেখিয়ে এক দিনের ছুটি নেন। এরপর আর ফেরেননি। অন্যদিকে, ২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর সাইচা উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগ দেওয়া কাজী সামসুদ্দোহা ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে উধাও। স্থানীয়দের ধারণা, যথাযথ নিয়ম না মেনেই তাঁরা দুজনেই বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন।

বিস্ময়কর বিষয় হলো, গত ১০ বছর ধরে এই দুই চিকিৎসক অনুপস্থিত থাকলেও তাঁদের পদ দুটি ‘শূন্য’ ঘোষণা করা হয়নি। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নতুন করে কোনো চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। প্রায় ৪ লাখ মানুষের চিকিৎসার জন্য রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে মাত্র ২১ জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন। বিশেষ করে হাড়জোড়া (অর্র্থোপেডিক) বিশেষজ্ঞ না থাকায় পঙ্গুত্বের ঝুঁকিতে থাকা সাধারণ রোগীরা সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

প্রতি মাসের ৫-৬ তারিখে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে জনবল পরিস্থিতির একটি প্রতিবেদন জেলা সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়। সেখানে প্রতি মাসেই এই দুই চিকিৎসকের অনুপস্থিতির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গত এক দশকেও তাঁদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়নি বা পদগুলো শূন্য ঘোষণা করেনি। তাঁরা বেতন-ভাতা উত্তোলন না করলেও পদ দখল করে রাখায় জনবল সংকটের সমাধান হচ্ছে না।

দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি রায়পুর উপজেলা শাখার সভাপতি সাব্বির আলম মিয়াজী এই ঘটনাকে ‘চরম দায়িত্বহীনতা’ উল্লেখ করে বলেন, ‘এটি কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং রায়পুরের জনগণের সঙ্গে এক ধরনের পরিহাস। আইন ভঙ্গকারী এই চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কেন কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে পদগুলো শূন্য করা হলো না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।’

এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. বাহারুল আলম বলেন, ‘আমরা নিয়মিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করে আসছি। তাঁদের কর্মস্থলে ফেরার জন্য বারবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কোনো হদিস মেলেনি। পদ দুটি টেকনিক্যালি শূন্য না হওয়ায় আমরা নতুন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পাচ্ছি না। সীমিত লোকবল দিয়ে চার লাখ মানুষকে সেবা দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।’

দশ বছর ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে সরকারি পদের ‘সংকট’ সৃষ্টি করে রাখা এই দুই চিকিৎসকের বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শেষ পর্যন্ত কী ব্যবস্থা নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

Editor

Editor

সম্পাদক

সর্বমোট নিউজ: 252

Share this...
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বে-আইনি।
আরও দেখুন
  • আমাদেরকে ফলো করুন…