লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌর শহরে ইজারার নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে মিজানুর রহমান নামের স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। খাজনা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এক পান ব্যবসায়ীকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পান ব্যবসায়ী হারুনুর রশীদ, অভিযুক্ত মিজানুর রহমান ও আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে বুধবার সকালে রায়পুর থানায় পৃথক তিনটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রায়পুর শহরের মুড়িহাটা সড়কের ইজারা নিয়েছেন মিজানুর রহমান ওরফে মিজান সর্দার। তিনি নিজেকে স্থানীয় যুবদল নেতা হিসেবে পরিচয় দেন। অভিযোগ রয়েছে, মুড়িহাটা সড়ক ছাড়াও সাবেক সোনালী ব্যাংক সড়ক ও প্রধান সড়ক থেকে তিনি নিয়মিত টাকা আদায় করছেন।
ভুক্তভোগী পান ব্যবসায়ী হারুনুর রশীদ অভিযোগ করেন, ‘আমি দীর্ঘ বছর ধরে মুড়িহাটা সড়কে পানের ব্যবসা করি। কয়েক দিন ধরে মিজান খাজনার নামে আমার কাছে অতিরিক্ত টাকা দাবি করে আসছিলেন। প্রথমে মাসিক ৬০০ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও পরে প্রতিটি পানের টুকরি থেকে ৩০ টাকা এবং সর্বশেষ দৈনিক ৩০ টাকা দাবি করা হয়। এতে রাজি না হওয়ায় মিজান সর্দার ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে মারধর করেন এবং আমার পরিহিত জামা ছিঁড়ে ফেলেন। টাকা না দিলে মালামাল রাস্তায় ফেলে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।’
এদিকে মারধরের ভিডিওটি মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষ ও বাজার ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমালোচনা শুরু হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মিজানুর রহমান বলেন, ‘মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমি পৌরসভার একজন ইজারাদার। সিডিউল অনুযায়ী খাজনা আদায় করছি, এটা কোনো চাঁদা নয়।’ ব্যবসায়ী হারুন মিথ্যা বলছেন দাবি করে মিজান জানান, তিনিও ওই ব্যবসায়ী ও তাঁর সহযোগী আনোয়ারকে বিবাদী করে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।
অন্যদিকে বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেনও মিজানের বিরুদ্ধে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
রায়পুর বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ফুটপাতে সাধারণত কোনো ইজারা দেওয়া হয় না। ইজারার নামে ফুটপাতে খাজনা আদায় করা দুঃখজনক। আমরা প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
রায়পুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার জানান, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। তবে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, ব্যবসায়ী হারুনুর রশীদ, আনোয়ার হোসেন ও ইজারাদার মিজান সর্দারের পৃথক অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


