নিরাপত্তার কারণে ভারতে বিশ্বকাপে খেলতে না চাওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এ মুহূর্তে বেশ চাপে আছে। সবচেয়ে বেশি চাপে আছেন সম্ভবত বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিসিআই) কি স্বস্তিতে আছে? উত্তরটা যে হ্যাঁ-সূচক নয়, সেটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরই বলে দিচ্ছে।
এনডিটিভি গতকাল জানিয়েছে, আজ গুজরাটের বরোদায় ভারত-নিউজিল্যান্ড সিরিজের প্রথম ওয়ানডের ফাঁকে বিসিসিআইয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসার কথা আইসিসি সভাপতি জয় শাহর। জয় শাহ যতই আইসিসির প্রধান হন, বিসিসিআই তো চলেই তাঁর ইশারায়। তবে পরিস্থিতি যতটা জটিল হয়ে গেছে, তাতে ভারতের কথামতো সব হয়ে যাবে, সেটি জোর দিয়ে বলার সুযোগ নেই। নিরাপত্তাবিষয়ক উদ্বেগ জানিয়ে বিসিবি যে চিঠি আইসিসিকে পাঠিয়েছে, সেখানে সংযুক্ত করা হয়েছে গত কিছুদিনে বাংলাদেশিদের উদ্দেশে দেওয়া ভারতীয় কট্টরপন্থীদের বিভিন্ন হুমকির ভিডিও, সংবাদের লিংক। বিসিবি শুধু তাদের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা চায়নি, চেয়েছে বিশ্বকাপ দেখতে ভারতে ভ্রমণে-ইচ্ছুক প্রত্যেক বাংলাদেশির।
বিসিবির চিঠির উত্তরে আইসিসি বাংলাদেশকে ভারতের নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে বলবে, নাকি বিসিবির চাওয়া সরাসরি খারিজ করে দেবে, নাকি শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ সরিয়ে নেবে—সেই উত্তর কাল রাতেও জানা যায়নি।
বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল গতকাল সিলেটে সাংবাদিকদের বলেছেন, আমরা এখনো কোনো উত্তর পাইনি (আইসিসির কাছ থেকে)। আমরা ওটা যত লিংক দরকার, সংযুক্ত করে দিয়েছি (ই-মেইলে) বা যত তথ্য দেওয়ার, সব আমরা দিয়েছি। আমরা অপেক্ষা করছি আইসিসি আমাদের কী জানায়।
বিসিবি মনে করছে, মোস্তাফিজুর রহমানকে যেভাবে বিসিসিআই কলকাতা থেকে বাদ দিয়েছে, তাতে তাদের চাওয়া আইনসংগত করে তোলার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। আর বিসিসিআই যে কাজটা ঠিক করেনি, এমন আলোচনা স্বয়ং ভারতেই আছে। ভারত ধারণা করতে পারেনি, বাংলাদেশ এ ঘটনায় এতটা কড়া প্রতিক্রিয়া ও পদক্ষেপ নেবে। এখন তারা উপায় খুঁজছে, কীভাবে দ্রুত একটা ভালো সমাধান খোঁজা যায়—যেখানে দুই পক্ষেরই ‘জেতা’র সুযোগ থাকবে।
গতকাল এনডিটিভি তাদের খবরের শিরোনাম দেখলেই এর ধারণা মিলবে, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভেন্যু নিয়ে জটিলতার সমাধান খুঁজতে বিসিসিআইয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করবেন জয় শাহ, কিন্তু বাংলাদেশকে মোকাবিলা করা সহজ হবে না।’
গতকাল বিকেলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমেই খবর ছড়ায়, বাংলাদেশের ম্যাচ কলকাতা থেকে চেন্নাইয়ে সরে যেতে পারে। কিন্তু এ খবরেরও যে ভিত্তি নেই, তা নিজেই পরিষ্কার করেছেন বিসিবি সভাপতি,
‘ভারতের অন্য ভেন্যু তো ভারতেই হবে। যেহেতু আপনারা জানেন যে আমরা এই বিশ্বকাপের ব্যাপারে একাই সিদ্ধান্ত নিচ্ছি না, আমরা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব এবং যেখানে আমরা দাঁড়িয়েছিলাম, এখনো সেখানেই আছি।’
—বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল
শনিবার চিঠির উত্তর আসেনি, আজ সাপ্তাহিক ছুটির দিন দুবাইয়ের আইসিসি কার্যালয় বন্ধ। কাল-পরশু কি আসতে পারে উত্তর? বিসিবি সূত্র জানায়, যেহেতু জরুরি বিষয়, ই-মেইল পাঠাতে ছুটির দিন বড় হয়ে দাঁড়াবে না। তবে চিঠি দেওয়ার আগে আইসিসি ও বিসিসিআই যে গভীর আলোচনা করছে, সময় নেওয়ার অর্থ এটিই।
বুলবুল মনে করেন, বাংলাদেশের যেমন বিশ্বকাপ খেলা জরুরি, তেমনি আইসিসিরও বাংলাদেশকে দরকার।
বিসিবি সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ একটা বিরাট রাজস্ব তৈরি করে সব দিক থেকে। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ বিশ্ব ক্রিকেটে একটা বড় দল, একটা ফুল মেম্বার। এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যেহেতু উপমহাদেশে হচ্ছে, সেটা আমাদের জন্য একটা বড় সুবিধা। এই বিশ্বকাপেও বাংলাদেশ ইনশা আল্লাহ ভালো খেলবে।


