
শনিবার (১০ জুন) দুপুর ২টায় রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের উদ্যোগে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আটক নেতাকর্মীদের মুক্তি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবিতে এই সমাবেশ হয়। শেষ হয় বিকেল পৌনে ৫টায়।
আরও পড়ুন- ঢাকায় সমাবেশ করার অনুমতি পেল জামায়াত
এদিকে সমাবেশ শেষে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের হাতে ফুল তুলে দিয়েছেন জামায়াতের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মীরা। ৩ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা শান্তিপূর্ণ এই সমাবেশ শেষে পুলিশ সদস্যদের হাতে ফুল দিতে দেখা যায়।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে সমাবেশ সঞ্চালনা করেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুল ইসলাম মাসুদ। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোঃ তাহের।
সমাবেশে অতিথি ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, প্রচার সম্পাদক মতিউর রহমান আকন্দ, মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর উত্তরের ভারপ্রাপ্ত আমির আবু মূসা, সেক্রেটারি মুহাম্মদ রেজাউল করিম, মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিক, দক্ষিণের দেলাওয়ার হোসাইন, কামাল হোসাইন প্রমুখ।
আরও পড়ুন- যে কারণে নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের মাস্ক পরতে বলা হয়েছে
জামায়াতের সমাবেশকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি যেন না হয়, সে জন্য সমাবেশস্থলে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনের ভেতর ও বাইরে থানা পুলিশের পাশাপাশি রিজার্ভ পুলিশ সদস্য রাখা হয়।
লিখিত বক্তব্যে সরকারের উদ্দেশ্যে মুজিবুর রহমান বলেন, দেশের মানুষ দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন মানবে না। তাই শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। এর বিকল্প নেই।

লিখিত বক্তব্যে তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন, দলীয় নেতাকর্মীদের মুক্তি, দলের সব কার্যালয় খুলে দেওয়াসহ ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন।
সমাবেশে ঢাকা মহানগর জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। মিলনায়তনে নেতাকর্মীদের ভিড় মিলনায়তন প্রাঙ্গণেও ছড়িয়ে পড়ে।
সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘আপনারা যারা সরকারে আছেন, আপনারাও বলছেন নিরপেক্ষ নির্বাচনের কথা। আমরাও চাই সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন।
আরও পড়ুন- উল্লাপাড়ায় গলায় ফাঁস নিয়ে যুবকের আত্মহত্যা
গণতন্ত্রের কথা হচ্ছে নিরপেক্ষ নির্বাচন। কিন্তু ডালমে কুচ কালা হে। ২০১৪ সালের নির্বাচন, ২০১৮ সালের নির্বাচন গেছে। এবার সেভাবে হতে দেওয়া হবে না। এবার নির্বাচন হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। আলোচনায় আসুন। সমাধান পাবেন।’
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রতিষ্ঠায় রাজপথে জামায়াত আন্দোলন করবে বলেও জানান তিনি। আব্দুল্লাহ তাহের বলেন, ‘এবারের নির্বাচন হবে একমাত্র তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। এর জন্য যা যা করা দরকার, আন্দোলন করা দরকার, সব করা হবে।’

শুধু শিবির কর্মীরাই নন, সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় জামায়াতের সিনিয়র নেতারাও পুলিশ বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ধন্যবাদ দিয়েছেন। সমাবেশের অনুমতি পাওয়া এবং পুলিশের আচরণে জামায়াত খুশি হয়ে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছে।
সমাবেশস্থলের নিরাপত্তা নিয়ে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হোসেন বলেন, ‘জনগণের জানমাল রক্ষায় আমাদের পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।’
আরও পড়ুন- ঘুমের সমস্যা থাকলে বাড়বে স্ট্রোকের ঝুঁকি
জামায়াতের এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে দুপুর থেকে মৎস্য ভবন, শাহবাগ সড়কে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। রায়ট কার, প্রিজন ভ্যানসহ সাদা পোশাকে সদস্যরাও ছিলেন আশপাশের এলাকায়।
এক দশক পর পুলিশের অনুমতি নিয়ে কর্মসূচি পালন করছে জামায়াত। এর আগে ২০১৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি পুলিশের অনুমতি নিয়ে মতিঝিলে বিক্ষোভ মিছিল করেছিল দলটি।




