লক্ষ্মীপুরবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ও প্রাণের দাবি অবশেষে বাস্তবায়নের পথে। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলাকে বিভক্ত করে ‘চন্দ্রগঞ্জ’ নামে নতুন একটি প্রশাসনিক উপজেলা গঠনের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ‘প্রাক-নিকার’ (প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি) সভায় এই প্রস্তাবটি আলোচ্যসূচিতে আসায় জেলাজুড়ে বইছে খুশির জোয়ার।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চন্দ্রগঞ্জকে উপজেলা হিসেবে গঠনের জন্য যে মানচিত্র তৈরি করা হয়েছে, তাতে সদর উপজেলার উত্তর ও পূর্ব অঞ্চলের একটি বড় অংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মানচিত্র অনুযায়ী প্রস্তাবিত উপজেলায় চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন ছাড়াও দত্তপাড়া, উত্তর জয়পুর, হাজীরপাড়া, দিঘলী, মান্দারী, কুশাখালী, চরশাহী ও বশিকপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়নগুলো স্থান পেতে পারে। রহমতখালী খাল ও ফরিদার নদীবেষ্টিত এই জনপদ ভৌগোলিক ও বাণিজ্যিক দিক থেকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা আয়তনে বিশাল হওয়ায় অনেক দূরবর্তী এলাকার মানুষ প্রশাসনিক সেবা নিতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হন। চন্দ্রগঞ্জ থেকে জেলা সদরের দূরত্ব ও যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সাধারণ মানুষের সরকারি দপ্তরে যাতায়াত কষ্টসাধ্য।
চন্দ্রগঞ্জের প্রবীণ বাসিন্দা আলহাজ্ব আবদুর রহমান বলেন, “চন্দ্রগঞ্জ অনেক আগে থেকেই একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র। এখানে পুলিশ থানা আছে, বড় বাজার আছে। এটি উপজেলা হলে আমাদের আর ছোটখাটো কাজের জন্য জেলা শহরে দৌড়াতে হবে না। আমরা ঘরের কাছেই সব সেবা পাব।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে সরকারি সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। তবে নতুন উপজেলা গঠনের ক্ষেত্রে শুধু ভৌগোলিক সীমানা নয়, অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগই বড় চ্যালেঞ্জ।
লক্ষ্মীপুরের স্থানীয় রাজনীতি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে চন্দ্রগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
চন্দ্রগঞ্জের সাধারণ মানুষের এখন একটাই প্রত্যাশা—দীর্ঘদিনের এই দাবি যেন দ্রুত বাস্তবায়নের মুখ দেখে। তারা এখন অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছেন সচিবালয়ের সেই গুরুত্বপূর্ণ সভার সিদ্ধান্তের দিকে।


