গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত, নিবন্ধন নং ১১৪
  1. অন্যান্য
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. আইন-বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চাকরি
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম
  12. নির্বাচন
  13. প্রবাসের খবর
  14. ফিচার
  15. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  16. বিনোদন
  17. বিশেষ প্রতিবেদন
  18. রাজনীতি
  19. শিক্ষাঙ্গন
  20. শেখ হাসিনার পতন
  21. সম্পাদকীয়
  22. সারাদেশ
  23. স্বাস্থ্য
  24. হট আপ নিউজ
  25. হট এক্সলুসিভ
  26. হাই লাইটস

খুঁড়িয়ে চলা লক্ষ্মীপুরের প্রাথমিক শিক্ষায় ‘মহা হাহাকার’!

নিজস্ব প্রতিবেদক
এপ্রিল ১২, ২০২৬ ১১:১৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

লক্ষ্মীপুর জেলার সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। জেলার অন্তত ২৫৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ সময় ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। শুধু শিক্ষকই নয়, উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষা কর্মকর্তাদের পদগুলোও খালি পড়ে আছে। এতে প্রশাসনিক কাজ সামলাতে গিয়ে বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে টানা ১৪ বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, শিক্ষক সংকট সবচেয়ে প্রকট লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায়। এখানে ১০৯টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও ৭০টি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। পাশাপাশি ৯ জন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পদও খালি। রামগঞ্জ উপজেলায় ৭৪টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও ৩৩ জন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য থাকার পাশাপাশি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদগুলোও খালি পড়ে আছে। এছাড়া রামগতি উপজেলায় ৪৩টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও ২৩ জন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য এবং ৫ জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদ খালি। রায়পুর ও কমলনগর উপজেলাতেও কয়েক ডজন বিদ্যালয়ে প্রধান ও সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

দীর্ঘ সময় পদ খালি থাকায় ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সহকারী শিক্ষকদের ওপর মানসিক ও দাপ্তরিক চাপ বাড়ছে। রায়পুরের সোনাপুর জীবনউন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক উত্তম কুমার শীল জানান, তিনি দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর মতে, অফিসের নথিপত্র সামলানো ও প্রশাসনিক দৌড়ঝাঁপ শেষে নিয়মিত পাঠদান করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। রায়পুর পৌরসভার সহকারী শিক্ষক কামরুন নাহার ও দক্ষিণ রায়পুর বিএম বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক উত্তম কুমার পাইকও একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তাদের মতে, নিয়মিত প্রধান শিক্ষক না থাকায় কাজের কোনো সঠিক সমন্বয় হচ্ছে না।

শিক্ষক নেতারা বলছেন, প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ছে। রায়পুর ও রামগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দিন আহমেদ ও মো. ইউছুফ জানান, গত কয়েক বছর ধরে পদোন্নতি ও নিয়োগ বন্ধ থাকায় এই সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। এর ফলে ক্লাসের সংখ্যা ও সময় কমে যাচ্ছে, যা সরাসরি শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও শিক্ষার গুণগত মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। প্রধান শিক্ষক একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমের প্রাণকেন্দ্র হওয়ায় এই দীর্ঘস্থায়ী শূন্যতাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন স্থানীয় শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, বিধি অনুযায়ী প্রধান শিক্ষকের পদের ৬৫ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ৩৫ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করার কথা। কিন্তু মামলাসংক্রান্ত জটিলতার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে পদোন্নতি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এই শূন্যতা তৈরি হয়েছে। রায়পুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মইনুল ইসলাম ও রামগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা এমরান হোসেন আশা প্রকাশ করেন, সরকার ইতোমধ্যে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং দ্রুত আইনি জটিলতা নিরসন করে পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হবে।

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন জানান, শূন্য পদের বিষয়ে প্রতি মাসেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরকে লিখিতভাবে জানানো হচ্ছে। সরকার ঘোষিত ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনার আওতায় দ্রুত পদোন্নতি ও নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হলে এই সংকট নিরসন হবে এবং বিদ্যালয়গুলোতে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ফিরে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Editor

Editor

সম্পাদক

সর্বমোট নিউজ: 244

Share this...
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বে-আইনি।
আরও দেখুন
সর্বশেষ
  • আমাদেরকে ফলো করুন…