আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে দেশে যে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না, সেটা তারাই প্রমাণ করেছে মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘নির্বাচনে বিরোধীদল থাকে জেলখানায়। নির্বাচনী মাঠ শূন্য করার জন্য একের পর এক পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়। ভোটাদের কেন্দ্রে যেতে দেওয়া হয় না। তাই নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিতে হবে।’
শনিবার (১৯ আগস্ট) সকালে ঢাকা জেলা বিএনপির উদ্যোগে দক্ষিণ কেরানীঞ্জের জিনজিরায় পদযাত্রা পূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
রিজভী বলেন, ‘আমাদের ধারণা খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে শেষ করার জন্য ২০১৮ সালে নির্বাচনের আগে তাকে কারাগারে নেওয়া হয়েছিল। কারণ শেখ হাসিনার একতরফা নির্বাচনের জন্য সবচেয়ে বড় ভয় ছিল খালেদা জিয়া। পথের কাঁটা দূর করতে, নির্বাচনী মাঠ শূন্য করতে রাষ্ট্র শক্তি ব্যবহার করে, আইন আদালত ব্যবহার করে বন্দি করা হয়েছিল।’
আরও পড়ুন- উলিপুরে মাদরাসায় নিয়োগের আবেদন জমা নিতে গড়িমসি
তিনি বলেন, ‘সরকার খালেদা জিয়াকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার অনুমতি দিচ্ছে না কেন? তিনি যদি উন্নত চিকিৎসার জন্য যান সেখানে চিকিৎসায় ধরা পড়তে পারে কারাগারে বন্দি রাখা অবস্থায় তার খাবারে বিষ মিশানো হয়েছিল কিনা। বিদেশে উন্নত ল্যাবে এটা ধরা পড়তে পারে। এই কারণেই দেশনেত্রীকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে না।’
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘যে সুস্থ মানুষটি কারাগারের ভেতরে গেলেন, আজ তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে কেন? কারণ খালেদা জিয়াকে দুনিয়ে থেকে তুলে দেওয়া হবে। উনি যে রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী তা হলো- এক দল থাকবে, এক নেত্রী থাকবে। কেউ কোনো সত্য উচ্চারণ করবে না। যে করবে সে গুমের শিকার হবে বা বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হবে। এই কারণেই খালেদা জিয়াকে বন্দি করে রেখেছেন।’
ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরীর পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখে জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক, কেন্দ্রীয় নেতা নাজিম উদ্দিন মাস্টার, তমিজউদ্দিন, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার সাধারণ সম্পাদক মোজাদ্দেদ আলী বাবু। সমাবেশ শেষে খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও তার উন্নত চিকিৎসার দাবিতে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।



