গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত, নিবন্ধন নং ১১৪
  1. অন্যান্য
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. আইন-বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চাকরি
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম
  12. নির্বাচন
  13. প্রবাসের খবর
  14. ফিচার
  15. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  16. বিনোদন
  17. বিশেষ প্রতিবেদন
  18. রাজনীতি
  19. শিক্ষাঙ্গন
  20. শেখ হাসিনার পতন
  21. সম্পাদকীয়
  22. সারাদেশ
  23. স্বাস্থ্য
  24. হট আপ নিউজ
  25. হট এক্সলুসিভ
  26. হাই লাইটস

লক্ষ্মীপুরে মাদকের ৪২ গডফাদার! নীল ছোবলে ৮ মাসে ৯ খুন, দিশেহারা জনপদ

তাবারক হোসেন আজাদ
এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ৭:০৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

লক্ষ্মীপুর জেলায় কোনোভাবেই মাদক বিক্রি ও সেবন রোধ করা যাচ্ছে না। প্রতিদিনই ৪-৫ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হলেও ৭-৮ দিন পর জামিনে বেরিয়ে এসে তারা আবারও মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে। ছেলের হাতে বাবা, স্বামীর হাতে স্ত্রী এবং বন্ধুর হাতে বন্ধু হত্যাসহ নানা ধরনের অপরাধ অহরহ ঘটছে। এছাড়াও প্রতিদিনই ডাকাতি, চুরি-ছিনতাই, কিশোর গ্যাংসহ সামাজিক অপরাধ ও বিশৃঙ্খলা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সম্প্রতি মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় রায়পুরে এক ওয়ার্ড বিএনপি নেতার বসতঘরে আগুন দেওয়ার চেষ্টা চালায় মাদক সংশ্লিষ্টরা। সংবাদ পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। এসব অপরাধের নেপথ্য খুঁজতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ ঘটনার পেছনেই রয়েছে মাদকের প্রভাব। মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে বৃদ্ধ মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যদের মারধর ও ঘরবাড়ি ভাঙচুর করার ঘটনাও ঘটছে। এতে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের হিসাব মতে, লক্ষ্মীপুর জেলায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন ৪২ জন গডফাদার। এর মধ্যে শীর্ষ গডফাদার ৮ জন, পাইকারি বিক্রেতা ১৩ জন এবং খুচরা বিক্রেতা ১৯ জন। গত তিন মাসে (জানুয়ারি থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত) জেলায় ৫৪৫টি অভিযান চালানো হয়েছে। এতে মোট মামলা হয়েছে ১১৬টি এবং ১২৫ জন মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই সময়ে উদ্ধার করা হয়েছে ৪ হাজার ১৩২ পিস ইয়াবা, ১ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা, ২৫ বোতল মদ, ২০ হাজার টাকা, ৯টি মোবাইল ফোন, ১টি মোটরসাইকেল, ১টি অটোরিকশা, ১টি সিএনজি, পুলিশের লোগোযুক্ত হ্যান্ডকাফ এবং ৪ রাউন্ড কার্তুজসহ ১টি দেশীয় পাইপগান।

গত রোববার (১২ এপ্রিল) জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় একাধিক বক্তা ও সাংবাদিক মাদকের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। রাজনৈতিক মদদ আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো কোনো সদস্যের সঙ্গে ‘সমঝোতার’ কারণে আশানুরূপ সুফল আসছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

সমাজ বিশ্লেষকরা বলছেন, মাদক রোধে আইনের শাসন আর রাজনীতিবিদদের অঙ্গীকার প্রয়োজন। এই ব্যবসার সঙ্গে অনেক সময় জনপ্রতিনিধিরাও জড়িত থাকেন। মাদক ব্যবসায়ীরা রাতারাতি কোটিপতি বনে যায়, যা অন্যদেরও এই পথে টানছে। এই সংকট রুখতে পারিবারিক ও সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার তাগিদ দেন তারা।

চরপাতা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন কবিরাজ বলেন, “গ্রামেও এখন রাজনৈতিক মদদে ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজা বিক্রি হচ্ছে। মোবাইল ফোনে বিক্রেতার সঙ্গে চুক্তি করে পথেই মাদক হাতবদল হয়। এমনকি বিকাশেও লেনদেন হচ্ছে।”

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার গ্রামগুলোতে ফেরি করে, রিকশায় বা মোটরসাইকেলে ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি হচ্ছে। এতে নেশায় বুঁদ হয়ে থাকছে তরুণ ও যুবসমাজ। এর প্রভাবে মাদকাসক্তদের ঘরে ঘরে অশান্তি দেখা দিয়েছে। তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে চলতি এপ্রিল মাস পর্যন্ত মাদকাসক্তদের হাতে ৯টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে আলোচিত সদর উপজেলার বশিকপুরে বসতঘরের দরজা তালা দিয়ে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দুই সন্তানসহ স্ত্রীকে হত্যা এবং রামগতির চরকলাকোপা গ্রামে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা অন্যতম। এছাড়াও সদরের গঙ্গাপুর গ্রামে ছেলের হাতে মা এবং উত্তর টুমচর গ্রামে ভাইয়ের হাতে ভাই খুন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

গত বছরের ১ জুন মাদক ব্যবসার দ্বন্দ্বে লক্ষ্মীপুর সদরের উত্তর জয়পুরে আজাদ হোসেন বাবলু নামে একজনকে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষ। ১১ জুন রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী গ্রামে মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় বৃদ্ধ আলী দেওয়ানকে কুপিয়ে হত্যা করে মাদকাসক্ত ছেলে মামুন। ১১ এপ্রিল সদরের পূর্ব চৌপল্লী গ্রামে মাদকের দ্বন্দ্বে রুবেল হোসেন নামে একজনকে গুলি করা হয়। ৯ এপ্রিল লক্ষ্মীপুর উত্তর তেমুহনীর নিউ মার্কেটের ছাদে গাঁজা সেবনকালে পড়ে গিয়ে সিরাজ নামে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়। ১৫ মার্চ রাতে মদ্যপ স্বামী আলমগীরের বিরুদ্ধে তার স্ত্রী রিনা বেগমের দুই পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

সদরের লতিফপুর গ্রামে মাদকের প্রতিবাদ করায় ৮ সেপ্টেম্বর অষ্টম শ্রেণির ছাত্রসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে মাদক কারবারি আবুল কালাম জহির। সে নিজে ৬টি মাদক মামলার আসামি ও পুলিশের তালিকাভুক্ত ব্যবসায়ী।

র‍্যাব-১১ জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৩ জানুয়ারি লক্ষ্মীপুরে সবচেয়ে বড় ইয়াবার চালানসহ সদরের চর রমনী ইউপি সদস্য মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছে ৮৫ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। পরে তার তথ্যে আরও লক্ষাধিক ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, চলতি বছরের ১৮ মার্চ রায়পুরের বামনী গ্রাম থেকে ইয়াবা ও গাঁজাসহ মাদক সম্রাট দেলোয়ার হোসেন মাইকেল ও পরান হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে ২১টি মামলা রয়েছে। কিন্তু তারা আইনের ফাঁক দিয়ে দ্রুত জামিনে বের হয়ে পুনরায় এই ব্যবসায় লিপ্ত হয়।

রায়পুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুল আলম মিন্টু বলেন, “আইনের শাসন আর রাজনীতিবিদদের সদিচ্ছা প্রয়োজন। মামলার দুর্বলতার কারণেই আসামিরা জামিনে বেরিয়ে পুনরায় একই অপরাধ করছে।”

জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের পরিদর্শক মোহাম্মদ শরীফ উদ্দীন বলেন, “লক্ষ্মীপুরে মাদকের ব্যবহার ও বিক্রি কিছুটা বেড়েছে। রাজনৈতিক মদদে অনেকে এই ব্যবসা করছে। আমাদের নিয়মিত অভিযান চলছে। বর্ডার এলাকায় নজরদারি বাড়াতে হবে। আমরা স্কুল-কলেজে সচেতনতামূলক সভা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা করছি। সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া মাদক নির্মূল সম্ভব নয়।”

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবু তারেক বলেন, “মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে হলে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে কঠোর অবস্থান এবং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন। মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পুলিশ যথাযথ তদন্ত প্রতিবেদন দিলেও অনেক সময় মানুষ আদালতে সাক্ষ্য দিতে চায় না। মাদকের সঙ্গে পুলিশের কোনো আপস নেই। উদ্ধার ও আসামি গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

Editor

Editor

সম্পাদক

সর্বমোট নিউজ: 246

Share this...
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বে-আইনি।
আরও দেখুন
সর্বশেষ
  • আমাদেরকে ফলো করুন…