লক্ষ্মীপুর পৌরসভার দক্ষিণ লক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতির কারণে কাজ শুরু করা সম্ভব না হওয়ায় সদর উপজেলা প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম ঘটনাস্থল থেকে ফিরে যান।
জমিদাতা ও মামলার বাদী মোজাম্মেল হোসেন অভিযোগ করেন, ১৯৬৩ সালের জুন মাসে স্থানীয় কিছু দাতা সদর উপজেলার ইটেরপুল এলাকায় বিদ্যালয়টির জন্য ৯ শতাংশ জমি (লক্ষ্মীপুরের অন্তগত ৬৪ নং ৭০৬ নং খতিয়ান এমআরআর ৬৮০ নং খতিয়ানভুক্ত ৫৯৯৩-৫৯৯৬ নং দাগে মোঃ ২.২৯ দাগের অন্দরে ৯০-১_২ ডিসিম ভুমি। যাহা লক্ষ্মীপুর এর অন্তর্গত ৪২ নং লক্ষ্মীপুর মৌজার আরএস ৪নং খতিয়ানভুক্ত ১৩৩২২ দাগের অন্দরে ১০ ডি. ভুমি ও অন্দরে ৩ ডি. ভুমি।) দান করেন। দলিল অনুযায়ী বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখল করে আসছে। তবে সম্প্রতি এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বিদ্যালয়ের এক পাশের জমিতে বালু ভরাটসহ স্থাপনা নির্মাণ করছেন বলে তিনি দাবি করেন। এতে তার বাড়ি ও যাতায়াতের রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশও ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য বরাদ্দ পাওয়া যায়। কিন্তু কাজ শুরু করতে গেলে জমিদাতার উত্তরসূরিরা এতে বাধা দেন।
অভিভাবকরা জানান, জমি নিয়ে বিরোধের কারণে বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার মধ্যে রয়েছে। প্রায় ১৯ শতাংশ জমিতে স্কুলটি স্থাপিত হলেও এর মধ্যে ১০ শতাংশ জমি নিয়ে গত দুই বছর ধরে আদালতে মামলা চলছে। বিদ্যালয়ের পাশেই সিএনজি ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড থাকায় অতিরিক্ত লোকসমাগমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। দ্রুত সীমানা প্রাচীর নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর নাহার জানান, প্রাচীর নির্মাণের জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেলেও পশ্চিম পাশের কাজ শুরু করতে গিয়ে তারা জমিদাতাদের উত্তরসূরিদের বাধার মুখে পড়েন। ঘটনাস্থলে উপজেলা প্রকৌশলী এলেও পরিস্থিতির কারণে কাজ শুরু করা যায়নি।
সদর উপজেলা প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম বলেন, জমি-সংক্রান্ত মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকায় আপাতত সীমানা প্রাচীরের কাজ না করেই ফিরে আসতে হয়েছে।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা বলেন, আমি অভিযোগ পেয়েছি। উভয় পক্ষকে নোটিশ দিয়ে ডেকে শুনানি শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



