সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় মানচিত্রে ঠিকই আছে সোনাখালী নদী। এটি দুটি নদীর মধ্যে বলা চলে একটি সংযোগ কারী নদী। এখনকার বাস্তব চিত্রে সোনাখালী নদীটি আর নদী নেই। প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ নদীটির বেশী অংশ ভরাট হয়ে গেছে। এতে চারটি এলাকার আবাদী মাঠের পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। বছরের বিভিন্ন সময়ে নদীর বুকে করা হচ্ছে ফসলের আবাদ।

এদিকে নদী ভরাটের এক জায়গায় নির্মাণ করা ড্রেনে এবারের বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন হবে না বলে জানা গেছে।
উল্লাপাড়া উপজেলার পূর্ব পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ফুলঝোড় নদীর শাখা কচুয়া (বিলসূর্য) নদী কয়ড়া ইউনিয়নের রতনদিয়ার এলাকা হয়ে অন্য নাম পরিচয়ে দহকুলা পেরিয়ে বড়াল নদীতে মিশেছে।
আরও পড়ুন- লক্ষ্মীপুরে হত্যা মামলায় বাবা ও দুই ছেলের যাবজ্জীবন
এদিকে করতোয়া শাখা স্বরস্বতি নদী হাটিকুমরুল এলাকা হয়ে পূর্বদেলুয়া ব্রীজের নীচ দিয়ে বয়ে পূর্ণিমাগাতী ইউনিয়নের ছয়বাড়িয়া পেরিয়ে গয়হাট্রা এলাকায় অন্য একটি নদীর সাথে মিশেছে।
উল্লাপাড়া সদর ইউনিয়নের নাগরৌহা এলাকায় কচুয়া নদী থেকে একটি শাখা সোনাখালী নদী নাগরৌহা, পুকুরপাড়, বেতুয়া, ছয়বাড়িয়া মৌজা হয়ে স্বরসতি নদীতে মিশেছে। প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ সোনাখালী নদীটি স্বরস্বতি ও কচুয়া নদী দুটির মধ্যে একটি সংযোগ নদী। মৌজার মানচিত্রে সোনাখালী নদী এভাবেই আছে।
সোনাখালী নদীটির পুরো জায়গা সরকারী খাস জায়গা সম্পত্তি বলে উপজেলা ভূমি অফিস সুত্রে জানা গেছে।
সরেজমিনে নাগরৌহা, পুকুরপাড়, বেতুয়া ও ছয়বাড়িয়া এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে সোনাখালী নদীর বেশী অংশ ভরাট হয়ে গেছে। নাগরৌহা, পুকুরপাড় এলাকায় নদীর দুপাড়ের জমির মালিকেরা তাদের জমির আগত অংশ নদীর সরকারী জমি দখলে নিয়েছেন। এরা নিজেদের আগত অংশ ভরাট করে বিভিন্ন ফসলের আবাদ করে থাকেন। এখন বোরো ধান ফসলের আবাদ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন- রিজার্ভ সাত বছরে সর্বনিম্ন
এদিকে ছয়বাড়িয়া এলাকায় স্বরস্বতি নদীর মুখ থেকে কিছুটা দুরে নদীর এক অংশ বছর দুয়েক আগে একেবারে ভরাট করে ফেলা হয়েছে। এ কারণে গত বছরের বর্ষা মৌসুমে সোনাখালী নদীটির ভরাট অংশ হয়ে পানি নিষ্কাশন পথ বন্ধ হওয়ায় এলাকার অনেকেই এ নিয়ে অভিযোগ ও প্রতিবাদ জানায়। সেখানে গত কদিন আগে প্রায় ৩০ মিটার দীর্ঘ একটি ভূগর্ভস্থ ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে।
জানা গেছে এডিপি থেকে নেওয়া প্রকল্পে প্রায় দু’লাখ টাকা ব্যয়ে এলজিইডি এর নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করেছে।
আরও পড়ুন- গায়েব হওয়া ২৬ হাজার নথি উদ্ধারঃ হাইকোর্টকে জানাল রাজউক
সরেজমিনে দেখা গেছে নদী ভরাট করা জায়গার অর্ধেকের কম অংশে ড্রেনটি নির্মাণ করা হয়েছে। এ ড্রেন দিয়ে পানি নিষ্কাশন হবে না। এর সাথে আরো কমপক্ষে পঞ্চাশ ফুট ড্রেন নির্মাণ করা হলে তবেই ভূগর্ভস্থ ড্রেনটি হয়ে পানি নিষ্কাশন হবে বলে এলাকার লোকজনের মত মিলেছে।

ওই এলাকার হাজী আছমত আলী, আবু তাহের, ইদ্রিস আলী বলেন, এক সময় সোনাখালী নদী হয়ে নৌকা চলাচল করতো। আর নাগরৌহা উত্তরপাড়া মাঠ, বেতুয়া মাঠ ও বিল, পুকুরপাড়, ছয়বাড়িয়া আবাদী মাঠে শত শত বিঘা জমিতে সোনাখালী নদী হয়ে মৌসুমে বন্যার পানি ঢুকতো ও সে পানি সহজেই নিষ্কাশন হয়ে যেতো। নদীটি ভরাটে সহজে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। সোনাখালী নদী পুনঃখনন করা হলে আবাদী মাঠগুলো থেকে সহজে পানি নিষ্কাশন হবে বলে তারা জানান।
আরও পড়ুন- সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায় যুক্তরাজ্য
বিএডিসি (পানাসি সেচ উন্নয়ন প্রকল্প) উল্লাপাড়া জোনের সহকারী প্রকৌশলী জাহিদ হাসান বলেন, উপজেলা সেচ কমিটি থেকে নেওয়া উদ্যোগে পানাসি প্রকল্পে সোনাখালী নদী পুনঃখননে উদ্যোগ নেবেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ উজ্জল হোসেন বলেন, সরেজমিনে সোনাখালী নদীর হাল অবস্থা পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে তা পুনঃখনন করা হবে।




