লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী ইউনিয়নে হাসন্দী গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন ঋণ নিয়ে ৫০ শতক জমিতে ধান চাষ করার জন্য হাল চাষ দিয়ে ধানের চারা রোপন করেন পানি পাবে এই আশায়, কিন্তু এই ধান চাষাবাদ এখন তার গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে পানির সংকটে, ফেটে গেছে তার রোপন করা ফসলি ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে রোপন করা ধানের চারা গুলো, আবুল হোসেনের মত পানি সংকটে বিপাকে রয়েছে সদর উপজেলার হাসন্দী পার্বতীনগর সহ জেলার রায়পুর, রামগঞ্জের কৃষকরা, বেড়ি খালে বাঁধ থাকায় পানি সরবরাহ করা যাচ্ছে না ফসলী জমিতে। এতে চলতি মৌসুমের ইরি বোরো ধান চাষাবাদ করতে পারছেনা এসব এলাকার কৃষক। দার-দেনা ও বর্গা নেওয়া জমি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন এখানকার কৃষকরা। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালীদের বাধায় খালের বিভিন্ন স্থানে বাঁধ দিয়ে মাছচাষ করায় পানি সরবাহ বন্ধ রয়েছে, পানির অভাবে চাষাবাদ বন্ধ থাকায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন চাষীরা। এদিকে কৃষকরা যেন ক্ষতিগ্রস্থ না হন এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ও কৃষি কর্মকর্তা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় উত্তর হামছাদী পার্বতীনগর ইউনিয়ন সহ সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানির অভাবে জমিতে ধান চাষ করতে পারঝেনা কৃষক। পানির অভাবে বোরো রোপণ করা জমির মাটি ফেটে যাচ্ছে। এত দিনে বোরো ধানের চারা রোপণ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পানি নেই ক্ষেতে কিন্তু পানি না থাকায় অনেক জমিতে এখনো হাল চাষ দেওয়া সম্ভব হয়নি। যেসব জমিতে ধানের চারা রোপণ করা শেষ হয়েছে পানির অভাবে সেগুলোর তলা শুকিয়ে ফেটে গেছে। ধান রোপণের সময় ফুরিয়ে আসায় পানির জন্য চাষিরা হাহাকার করছেন অস্থির হয়ে উঠেছেন কৃষকেরাও। স্থানীয় প্রভাবশালীদের বাধার মুখে খালের বিভিন্ন স্থানে বাধঁদিয়ে মাছচাষ করায় পানি সরবাহ বন্ধ রয়েেেছ, বেশ কিছু এলাকায় শাখা সেচ খাল সংস্কার না হওয়ার কারণে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে খালের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পানি গিয়ে পৌঁছাতে পারছে না।
এদিকে স্থানীয় প্রভাবশালীর বাধার মুখে খালের বিভিন্ন স্থানে বাঁধগুলো বিচ্ছিন্ন করা যাচ্ছেনা এই সব বাঁধ এর কারনে ফসলি জমিতে সেচের পানি সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এখন চাষাবাদ করতে না পারায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন সাধারন কৃষকরা। আবার কেউ কেউ বলছেন, ইরি বোরো ধান চাষাবাদের আশায় চারা রোপন করতে প্রতি কেজি বীজ ধান ৭০০ টাকা মুল্যে কিনে বীজতলা করে এখন বিপাকে পড়েছেন অনেকে।
পানির ওপর ভরসা করে এসব এলাকায় ইরি বোরো ধান চাষ করেন কৃষকেরা। এ এলাকায় এখনো অনেক কৃষক পানিসংকটে তাঁদের জমিতে হাল চাষ দিতে পারেননি। যাঁরা করেছেন, তাঁদের অনেক এখন পানিসংকটে পড়েছে। পানির সংকট অতিরিক্ত মাত্রায় দেখা দিলে বোরো চাষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মারাত্মক আশঙ্কা রয়েছে। এ বছর চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে খালে বাঁধ দিয়ে রাখা হয়েছে, পানি সরবারহ করার দ্রুত দাবী জানান তারা।
উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের হাসন্দী গ্রামে পানি সরবরাহকারী ফরিদ উদ্দিন বলেন, উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের বেড়ি খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করা ও চাঁদপুরের খালে পানি না আসায় আমরা সেচ করতে পারছিনা কৃষকের ক্ষেতে পানি দিতে পারছিনা বেড়ির খালের বাঁধগুলো কেটে দিতে আমার পানি দিতে পারবো বলে জানান তিনি।
লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ বলেন, কিছু জায়গায় এ সমস্যা আছে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের বাধায় খালের বিভিন্ন স্থানে বাধঁ দিয়ে মাছচাষ করায় পানি সরবাহ বন্ধ রয়েেেছ, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেন তিনি।
লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ড. মো: জাকির হোসেন জানান, জেলায় ৩৫ হাজার ৫শত হেষ্টর জমিতে বোরো ধান করা হচ্ছে, বর্তমানে ২০ হাজার ৯শত হেষ্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছে। যেসব এলাকায় পানি সরবারহ করা হয়নি তা দ্রুত সমাধান করা হবে বলে জানান তিনি।


