ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার এক সময়ের হতদরিদ্র সিএনজি চালক রবি উল্লাহ রবি এখন সৌদি আরবের পবিত্র শহর মদিনা-তে বসে অবৈধ হুন্ডি ব্যবসা পরিচালনা করছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে। মাসে মাত্র ৭৫০ রিয়াল বেতনের একটি ক্লিনিং চাকরির আড়ালে তিনি নামে-বেনামে কয়েক কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদ গ্রামের দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা রবি উল্লাহ রবি, যিনি এলাকায় ‘হুন্ডি রবি’ নামে পরিচিত। একসময় দিনমজুরি ও সিএনজি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করলেও বর্তমানে তিনি প্রবাসে বসে একটি অবৈধ অর্থ লেনদেন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা যায়, ধারদেনা করে সৌদি আরবে গিয়ে একটি ক্লিনিং কোম্পানিতে চাকরি নেন রবি। বর্তমানে তিনি ‘আল মাজালা আরাবিয়া’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে ক্লিনার হিসেবে কর্মরত। তার মাসিক বেতন মাত্র ৭৫০ রিয়াল, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ২৫ হাজার টাকার মতো। তবে এই সীমিত আয়ের সঙ্গে তার বিপুল সম্পদের কোনো মিল খুঁজে পাচ্ছেন না স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, হুন্ডি ব্যবসার মাধ্যমে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশে পৌঁছে দিয়ে মোটা অঙ্কের কমিশন আয় করছেন তিনি। এই অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমেই তিনি ইতোমধ্যে কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বলে দাবি এলাকাবাসীর।
স্থানীয়দের মতে, রাজধানীর সাভার এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় তার প্রায় দুই কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। নিজ গ্রামেও কাঁচা ঘরের পরিবর্তে দালানঘর নির্মাণ করেছেন তিনি। দেশে তার হয়ে একটি চক্র এই লেনদেন পরিচালনা করে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
হুন্ডি মূলত ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে অবৈধভাবে অর্থ স্থানান্তরের একটি পদ্ধতি। এতে প্রবাসী আয় বৈধ পথে দেশে না এসে অনানুষ্ঠানিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পৌঁছে যায়। অর্থনীতিবিদদের মতে, এ ধরনের কার্যক্রম দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং অর্থপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
এ বিষয়ে মদিনা প্রবাসী আল আমিন আহমেদ বলেন,
“আমরা বাঞ্ছারামপুরের ‘হুন্ডি রবির’ মাধ্যমে দেশে টাকা পাঠাই। তবে সে কার মাধ্যমে দেশে টাকা দেয়, তা আমাদের জানা নেই। সে এখানে একটি ক্লিনিং কোম্পানিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে।”
আরেক প্রবাসী আলম মিয়া বলেন,
“রবি অশিক্ষিত হলেও অনেক চালাক। মাত্র ৭৫০ রিয়াল বেতনের একজন শ্রমিক হয়েও হুন্ডির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা আয় করছে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রবি উল্লাহ রবি। তার দাবি, তিনি কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন।
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করে তাকে আইনের আওতায় আনা হোক।


