লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মাদকসেবী ও কিশোরগ্যাংদের সশস্র হামলায় কলেজছাত্র আশরাফুল ইসলাম হত্যা মামলায় প্রধান আসামিসহ পাঁচ আসামি এক মাসেও গ্রেপ্তার না হওয়ায় ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন করা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে (১৮ ফেব্রুয়ারী) উত্তর চরবংশি ইউপির খাসেরহাট বাজারে নিহতের পিতাসহ স্বজন ও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষার্থী মানববন্ধনে অংশগ্রহন করেন।
নিহত আশরাফুল ইসলাম রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের চরবংশী গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে ও রায়পুর রুস্তম আলী কলেজের ডিগ্রি শেষ বর্ষে অর্ধায়নরত ছিলেন।
নিহতের পরিবারকে বিভিন্ন মাধ্যমে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার। এক মাত্র ছেলেকে হারিয়ে আজও কাঁদছেন মা–বাবা।
হত্যা মামলার পলাতক আসামিরা হলেন—রায়পুরের চরআবাবিল ইউনিয়নের কিশোরগ্যাং সদস্য ও মাদকসেবি মোঃ নাহিদ, সুফিয়ান, শাকিল পাইক, শামীম ও মোঃ হাবিব। কলেজ ছাত্র আশ্রাফুল ইসলামকে হাতুরি ও ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা মামলার ১৮ দিন পার হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গ্রেপ্তার করতে না পারায় হতাশা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজনরা।
গত ১৭ জানুয়ারি আজিজুল হক বাদী হয়ে তার ছেলে হত্যারয় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৬ জনের বিরুদ্ধে রায়পুর থানায় একটি হত্যা মামলাদায়ের করেন। ২০ জানুয়ারী বিকেলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আশ্রাফুল ইসলামের মৃত্যু হয়েছে।।
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ রূপগঞ্জ থানাধীন ভুলতা গাউছিয়া এলাকা থেকে হত্যা মামলার আসামি শাকিল বেপারী (২৩), সোহাগ বেপারী (১৯) ও মোক্তার পাটওয়ারী (২০)। গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্ধি রয়েছে।
মামলার বাদি আজিজুল হক খান বলেন, আমার একমাত্র ছেলে কলেজছাত্র আশ্রাফুল ইসলামকে হারিয়ে আমার স্ত্রী অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে। হত্যার প্রধান ঘাতককে গ্রেপ্তার দাবি জানাই। যিনি হত্যাকারীদের সন্ধান দিতে পারবেন এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।”
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মাদক সেবনে বাধা ও ডিবি পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার সন্ধেহে গত ১৪ জানুয়ারি রাতে স্থানীয় মাদকসেবী ও কিশোরগ্যাং সদস্য নাহিদ বেপারী ও শাহিন বেপারীর নেতৃত্বে আশরাফুল ইসলামকে ডেকে নিয়ে তার ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা তাকে মৃত ভেবে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালের পর ঢাকা এক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চারদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জানুয়ারী বিকেলে তার মৃত্যু হয়েছে।
রায়পুর থানার ওসি শাহিন মিয়া জানান, কলেজ ছাত্র আশ্রাফুল ইসলাম হত্যা মামলার চার আসামি কারাগারে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ ও র্যাব খুবই তৎপর রয়েছে।


