ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির প্রথম দিনেই ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা তাঁর প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করা এই চিকিৎসক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) অনুষ্ঠিত আপিল শুনানি শেষে সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
শনিবার সকাল ১০টা থেকে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে আপিল শুনানি শুরু হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শুনানিতে অন্য নির্বাচন কমিশনাররাও উপস্থিত ছিলেন। শুনানি শেষে কমিশন ডা. তাসনিম জারার আপিল মঞ্জুর করে তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে। এর ফলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৯ আসনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ উন্মুক্ত হলো তাঁর জন্য।
প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর ডা. তাসনিম জারা বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি যে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন, তা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এখন তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রতীকের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে তাঁর পছন্দের প্রতীক ফুটবল মার্কা। সেই প্রক্রিয়ায় ফুটবল প্রতীকের জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করা হবে এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কমিশন নেবে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন তাঁদের যুক্তিগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। কমিশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাসনিম জারা বলেন, কমিশনের এই সিদ্ধান্তে তিনি আশাবাদী যে জনগণের সমর্থন নিয়েই আগামী নির্বাচনে লড়াই করতে পারবেন। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, জনসমর্থনই হবে তাঁর মূল শক্তি।
ডা. তাসনিম জারা জানান, গত এক সপ্তাহ তাঁর জীবনে ছিল এক ভিন্ন অভিজ্ঞতার সময়। দেশে-বিদেশে অসংখ্য মানুষ তাঁর জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন এবং দোয়া করেছেন। রাস্তায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় অনেকেই হতাশা ও কষ্ট প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর জন্য দোয়া করেছেন বলে জানান তিনি। এসব মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই সমর্থন ও ভালোবাসাই তাঁকে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দিচ্ছে।
তিনি তাঁর আইনজীবী দলের প্রতিও ধন্যবাদ জানান এবং দেশে ও বিদেশে যেখান থেকেই যারা তাঁর পাশে থেকেছেন, শুভকামনা ও দোয়া করেছেন, তাঁদের সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানান। সবার জনসমর্থনেই ইনশা আল্লাহ তিনি আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে লড়াই করতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন সাবেক এই এনসিপি নেত্রী।
উল্লেখ্য, ডা. তাসনিম জারা ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যোগ দিয়ে সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দলটির পক্ষ থেকেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা ছিল তাঁর। তবে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির জোট ঘোষণার পরপরই তিনি দল ছাড়ার ঘোষণা দেন এবং পরে ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এর আগে সমর্থক স্বাক্ষরসংক্রান্ত জটিলতার কারণে রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেন, যার শুনানি শেষে আজ তাঁর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়।
ঢাকা-৯ আসনটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৭১, ৭২, ৭৩, ৭৪ ও ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। এসব ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত সবুজবাগ, খিলগাঁও, মুগদা ও মান্ডা থানা এলাকা নিয়ে এই সংসদীয় আসন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিনে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সারা দেশে এক হাজার ৮৪২টি মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৭২৩টি মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গত ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়ে।
তফসিল অনুযায়ী, আপিল শুনানি চলবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। আজ ১ থেকে ৭০ নম্বর আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী রবিবার ৭১ থেকে ১৪০, সোমবার ১৪১ থেকে ২১০ এবং মঙ্গলবার ২১১ থেকে ২৮০ নম্বর আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।


