লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে দেড় বছর বয়সী শিশু কানিজ ফাতেমা হত্যার মামলায় নারীসহ তিনজনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তবে প্রধান দুই আসামি অসুস্থ থাকায় তাদের রিমান্ড স্থগিত রাখা হয়েছে। বুধবার ও বৃহস্পতিবার কারাবন্দি নিশু আক্তারকে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন লক্ষ্মীপুর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সৈকত দাশ।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে রায়পুর উপজেলার চরমোহনা ইউনিয়নের পশ্চিম চরমোহনা গ্রামের রায় বাড়ির এক প্রতিবেশীর বাথরুমের সেপটিক ট্যাংক থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী ও স্বজনরা অভিযুক্তদের বসতঘর ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়।
নিহত কানিজ ফাতেমা একই এলাকার প্রবাসী কাঞ্চন হোসেন ও গৃহিণী জান্নাতুল ফেরদৌস মেরীনের কন্যা। তাদের আরও একটি ছয় বছর বয়সী ছেলে রয়েছে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টার দিকে বাড়িতে খেলাধুলা করতে গিয়ে নিখোঁজ হয় কানিজ ফাতেমা।
মামলার আসামিরা হলেন— তোফায়েল আহাম্মদ (৬০), তার স্ত্রী ফিরোজা বেগম (৫০) এবং তাদের মেয়ে নিশু আক্তার (২৫)। তারা তিনজনই বর্তমানে লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারে রয়েছেন। তোফায়েল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং ফিরোজা বেগম কারাগারে অসুস্থ থাকায় তাদের রিমান্ড স্থগিত করা হয়েছে।
শিশুটির মা জান্নাতুল ফেরদৌস মেরীন জানান, ঘটনার দিন সকালে মেয়েটি প্রতিবেশী তোফায়েল আহাম্মদের ঘরে যাওয়ার পর আর তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাদের সঙ্গে তোফায়েলের পূর্ব থেকে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধের জের ধরে শিশুটিকে হত্যা করে মরদেহ সেপটিক ট্যাংকে ফেলে রাখা হয়।
এ বিষয়ে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মিয়া বলেন, শিশু হত্যা মামলায় স্বামী-স্ত্রী ও তাদের মেয়ে তিনজনই কারাগারে রয়েছেন। দু’বার রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। তবে তোফায়েল ও ফিরোজা বেগম অসুস্থ থাকায় তাদের রিমান্ড মঞ্জুর হয়নি। নিশু আক্তারকে দুই দিনের জন্য জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক।


