মেঘনা উপকূলীয় অঞ্চল লক্ষ্মীপুরের রয়পুরের দক্ষিন চরবংশী ইউপির জনগুরুত্বপূর্ণ আধা কিলোমিটার রাস্তার বিরোধ নিয়ে চরম দুর্ভোগে ১০০ গ্রামবাসী। স্থানীয় প্রভাবশালী দুই ব্যাক্তি ও চেয়ারম্যানের বাধায় প্রায় ১০ বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীসহ হাজারও মানুষ।
বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তিনপক্ষকে নিয়ে ২০ বছরের বিরোধকৃত জমির সিমানা নির্ধারনে ইউপি পরিষদে বৈঠকে বসে চেয়ারম্যান। সিদ্ধান্ত হয়, দুর্ভোগের স্বীকার গ্রামবাসি এমপি, জেলা প্রশাসক, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও এর কাছে লিখিত অভিযোগ দিবেন। তারপরে সমস্যা সমাধান হবে এবং পরিষদের প্রাচীর নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে বলে বৈঠক শেষ করা হয়।।
এলাকাবাসী জানায়, কাঁচা এই রাস্তাটি বৃষ্টিপাতের কারণে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে কাদা মাটিতে একাকার হয়ে যায়। ঘন বর্ষার সময় জল কাদায় শিশু ও বয়স্কদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে এ রাস্তা। ফলে স্বাভাবিকভাবে চলাচলের আর উপায় থাকে না। বর্ষাকালে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হায়দরগঞ্জ মডেল ও খাসের হাট কলেজ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এবং গ্রামের হাজার হাজার কৃষক-দিনমজুর সহ সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত চলাচল করেন। এছাড়া কর্দমাক্ত রাস্তা পাড়ি দিয়েই হাট-বাজারে যেতে হয় এলাকাবাসীকে। নির্বাচন এলেই জনপ্রতিনিধিরা এ রাস্তাটি নিয়ে তিন পক্ষের বিরোধ মিটিয়ে পাকা করার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু নির্বাচনের পরে আর কেউ এর খোঁজ রাখেন না।
আরও পড়ুন- বকশীগঞ্জে পুকুর থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার।
এলাকাবাসীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, নেতা আসে নেতা যায় কিন্তু এ রাস্তা সংস্কার হয় না এবং কৃষক, দিনমজুর, প্রভাবশালী ও পরিষদের সঙ্গে বিরোধ মিমাংসাও হয়না। বর্ষা এলে প্রতিবছরই এ রাস্তা দিয়ে চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে। হাঁটুসমান কাদামাটি পেরিয়েই এ রাস্তা দিয়ে যাতায়ত করতে হয় তাদের।
ক্ষতিগ্রস্থ্য গ্রামবাসীর পক্ষে দিনমজুর ওসমান ও আবু তাহের বলেন, প্রায় ২০ বছর আগে রাস্তা থাকার শর্তে মোল্লার হাট বাজারে পরিষদের জন্য আমাদের ১৬ শতাংশ জমি সাবেক চেয়ারম্যান রশিদ মোল্লার সাথে পাল্টা স্থানান্তর করি। পরে ওই জমিতে পরিষদের ভবন হয় এবং দুই পাশে প্রাচীর করায় রাস্তাটি দিয়ে চলাচলে সাময়ীক সমস্যা হয়। গত কয়েকদিন ধরে এই রাস্তা বন্ধ করে প্রাচীর নির্মানের উদ্যোগ নেন চেয়ারম্যান। এখন পরিষদ ও দুই প্রভাবশালী ব্যাক্তি আবদুল মতিন ও দাদন মিয়ার বাধায় আমরা ১০০ গ্রামবাসী চরম দূর্ভোগে পড়বো। এখন এমপি ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছি। তারাই সমাধান করবেন।
আরও পড়ুন- ডেঙ্গুতে আরও ১৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩১২২
তবে আবদুল মতিন ও দাদন মিয়া বলেন, পরিষদ যদি রাস্তা ছেড়ে দেয় আমরাও কৃষক পরিবারের জন্য ছেড়ে দিব। না হলে আমরা রাস্তা দিবোনা।।
দক্ষিন চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সালেহ মিন্টু ফরায়েজি বলেন, ‘এ রাস্তাটি ২০ বছর ধরে কাঁচাই রয়ে গেল। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে রাস্তার অবস্থা এতই খারাপ হয় যে এই এলাকার স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীসহ গ্রামের মানুষ ঠিকমতো চলাচল করতে পারে না। গত ১০ বছর আগে পরিষদ ভবনের প্রাচীর নির্মাণ এর উদ্যোগ নেই। কিন্তু রাস্তা নিয়ে কয়েকজন দিনমজুর ও কৃষক পরিবারের বাধায় প্রাচীর করতে পারছিনা। কয়েকবার বৈঠক করেও বিফলে যায়। বিষয়টি ইউএনওর নির্দেশে জমির সঠিক নির্ধারণ করে ইউপি সদস্যদের ও দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসি। সিদ্ধান্ত হয়েছে এখন এমপি, জেলা প্রশাসক ও ইউএনও ছাড়া সমস্যা সমাধান করতে পারবোনা।’



