লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীদের টার্গেট করে একটি সংঘবদ্ধ দালাল সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। তাদের প্রতারণার শিকার হয়ে অনেক রোগী অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অতিরিক্ত বিলের বোঝা বহন করতে বাধ্য হচ্ছেন।
হাসপাতাল প্রাঙ্গণেই সক্রিয় দালালরা
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ঘিরে ধরে একদল দালাল। তারা কখনো হাসপাতালের কর্মচারী, আবার কখনো ‘সহযোগী’ বা ‘গাইড’ পরিচয়ে রোগীদের সঙ্গে কথা বলে। হাসপাতালে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই রোগীদের বিভ্রান্ত করে উন্নত চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে পাশের বিভিন্ন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
ভয় দেখিয়ে ক্লিনিকে নেওয়ার অভিযোগ
রোগীদের অভিযোগ, দালালরা সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ও চিকিৎসা ব্যবস্থার মান নিয়ে ভয়ভীতি ও বিভ্রান্তি ছড়ায়। এরপর তারা রোগীদের কাছ থেকে প্রেসক্রিপশন বা কাগজপত্র নিয়ে নিজেদের পছন্দের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠায়। সেখানে অপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে হাজার হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে।
অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা বুঝতেই পারেন না যে তারা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। ফলে দরিদ্র ও সাধারণ মানুষ চিকিৎসা নিতে এসে আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সঙ্গে কমিশনভিত্তিক সিন্ডিকেট
স্থানীয়দের দাবি, কয়েকটি অসাধু বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিকের সঙ্গে এই দালাল চক্রের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। প্রতিটি রোগী পাঠানোর বিপরীতে তারা মোটা অঙ্কের কমিশন পায়। এই কমিশনের লোভেই দালালরা সরকারি হাসপাতালের সেবা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে রোগীদের অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছে।
সচেতন মহলের ক্ষোভ ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি
হাসপাতাল এলাকায় দালালদের প্রকাশ্য বিচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তারা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ, নিয়মিত তদারকি এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ না হলে সাধারণ মানুষ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা থেকে আস্থা হারাবে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দালালদের বিরুদ্ধে তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সন্দেহভাজন কাউকে শনাক্ত করা গেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও আইন প্রয়োগ ছাড়া এই দালাল সিন্ডিকেট নির্মূল করা কঠিন।


