আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সাহসী উদ্যোগ ও অনুপ্রেরণামূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে ‘সাহসিকা স্পেশাল পুরস্কার’ পেলেন বাংলাদেশের বিশ্বভ্রমণকারী নারী নাজমুন নাহার।
“বাঁধ ভেঙে দাও” স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত নারী দিবসের বিশেষ অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এই সম্মাননা ও সনদ তুলে দেন এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রের অনুপ্রেরণাদায়ী নারীদের উপস্থিতিতে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।
অনুষ্ঠানে নাজমুন নাহারকে ‘অনুপ্রেরণার অতিথি’ হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এ সময় তিনি তাঁর দীর্ঘ বিশ্বভ্রমণের অভিজ্ঞতা ও সংগ্রামের গল্প তুলে ধরেন।
বিশ্বভ্রমণে বাংলাদেশের পতাকা
নাজমুন নাহার প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে বিশ্বের ১৮৪ দেশ ভ্রমণ করে লাল–সবুজের পতাকা উড়িয়েছেন। তাঁর এই ভ্রমণ কেবল ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের পরিচয়, সংস্কৃতি এবং শান্তির বার্তা পৌঁছে দেওয়ার এক অনন্য উদ্যোগ।
বিশ্বভ্রমণের মাধ্যমে তিনি শান্তি, মানবিকতা এবং নারী ক্ষমতায়নের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর অভিযাত্রার অন্যতম মূল বার্তা— “যুদ্ধ নয়, আমরা চাই শান্তি।”
শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক পরিচিতি
লক্ষ্মীপুর জেলায় জন্ম নেওয়া নাজমুন নাহার উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে অধ্যয়ন করেছেন। তিনি সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়-এ পড়াশোনা করেন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়-এ মানবাধিকার ও এশিয়া বিষয়ক উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন।
বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে তিনি বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং নারী ক্ষমতায়ন ও শান্তির বার্তা তুলে ধরেছেন। তাঁর এই অসাধারণ উদ্যোগের জন্য দেশ-বিদেশে বহু সম্মাননা অর্জন করেছেন তিনি।
পুরস্কার গ্রহণের পর বক্তব্যে নাজমুন নাহার বলেন—
“আমি যখন প্রথম বিশ্বভ্রমণে বের হই, তখন আমার হাতে ছিল শুধু বাংলাদেশের লাল–সবুজের পতাকা আর একটি স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন ছিল পৃথিবীর প্রতিটি দেশে গিয়ে জানিয়ে দেওয়া—বাংলাদেশ শান্তির দেশ, সম্ভাবনার দেশ। একজন নারীও সাহস, পরিশ্রম ও দৃঢ় সংকল্প দিয়ে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে পৌঁছাতে পারে। আজকের এই সম্মাননা আমাকে আরও দায়িত্বশীল করে তুললো। আমি ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের পতাকা হাতে নিয়ে পৃথিবীর দেশে দেশে ঘুরে বেড়াতে চাই এবং নতুন প্রজন্মকে বড় স্বপ্ন দেখতে উৎসাহিত করতে চাই।”
অনুপ্রেরণার প্রতীক
নারী দিবসে ‘সাহসিকা স্পেশাল পুরস্কার’ প্রাপ্তি তাঁর দীর্ঘ সংগ্রাম ও সাফল্যেরই স্বীকৃতি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁর এই অর্জন দেশের তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে নারীদের জন্য সাহস, আত্মবিশ্বাস ও স্বপ্নপূরণের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
নাজমুন নাহার জানান, মানুষের ভালোবাসা ও উৎসাহকে শক্তি হিসেবে নিয়ে তিনি ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের পতাকা হাতে নিয়ে পৃথিবীর দেশে দেশে তাঁর অভিযাত্রা অব্যাহত রাখবেন।


