গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত, নিবন্ধন নং ১১৪
  1. অন্যান্য
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. আইন-বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চাকরি
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম
  12. নির্বাচন
  13. প্রবাসের খবর
  14. ফিচার
  15. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  16. বিনোদন
  17. বিশেষ প্রতিবেদন
  18. রাজনীতি
  19. শিক্ষাঙ্গন
  20. শেখ হাসিনার পতন
  21. সম্পাদকীয়
  22. সারাদেশ
  23. স্বাস্থ্য
  24. হট আপ নিউজ
  25. হট এক্সলুসিভ
  26. হাই লাইটস

অস্বাস্থ্যকর ও ভেজাল রং দিয়ে তৈরি হচ্ছে লক্ষ্মীপুর ফেমাস ফুডের খাবার

মোঃ ফরহাদ হোসেন
মে ১৬, ২০২৪ ৩:৪৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

চারিদিকে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশ। কেমিক্যালের রং ও কৃত্রিম ফ্লেভার ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে খাদ্য পণ্য। নিম্নমানের এসব ভেজাল পণ্য কিনে প্রতারিত হচ্ছেন ভোক্তারা। অপরদিকে হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য।

‘নিউ ফেমাস ফুড’ নামীয় এই বেকারির নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর ছাড়পত্র। শুধুমাত্র পৌরসভা ও ফায়ার সার্ভিসের ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে দিব্যি ব্যবসা করে যাচ্ছেন। পণ্য বাজারজাত করছেন বিএসটিআই ও জনপ্রিয় একাধিক ব্র্যান্ডের মনোগ্রাম নকল করে। আবার অধিকাংশ প্যাকেটের গায়ে থাকে না মেয়াদের তারিখ।
লক্ষ্মীপুর পৌরসভার আইয়ুব আলী পোলের গোড়া নামক স্থানে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে বেকারিটির কার্যক্রম। যার মালিকানায় রয়েছে ৭ জন। এদের মধ্যে অন্যতম পৌর শ্রমিক লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন সাদ্দাম। অভিযোগ রয়েছে, সরকার দলীয় এই শ্রমিক লীগ নেতার কারনে ‘সংশ্লিষ্টরা নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা’ করছেন না। নিরাপদ খাদ্য পণ্য নয় বিষ কিনে খাচ্ছেন জেনেও ভয়ে প্রতিবাদ করছেন না স্থানীয়রা। অন্যদিকে প্রশাসনকে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে ম্যানেজ করে রেখেছেন তিনি। ফলে অনিয়ন্ত্রিত এই বেকারির পণ্যে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি, তেমনি সরকারও হারাচ্ছে রাজস্ব।
তবে এসব অনিয়মের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার সাদ্দামের মুঠোফোনে কল দিয়েও তা সম্ভব হয়নি।
গত মঙ্গলবার (১৪ মে) সরেজমিনে দেখা যায়, বেকারির অভ্যন্তরে বিভিন্ন জায়গায় ময়লার স্তূপ। স্যাঁতস্যাঁতে মেঝে, কর্মচারিদের হাতে নেই গ্লাভস। জুতা পায়ে দিয়েই ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন রকমের পণ্য সাজিয়ে রাখছেন। অনেককে খালি গায়ে কাজ করতে দেখা যায়। কারও শরির থেকে ঘাম ঝরছে। পাশেই স্তূপ করা কেমিক্যাল রং ও ফ্লেভার গুঁড়া।
খোলা তেলভর্তি ড্রামের ওপর দেখা যায়, মাছি ভনভন করছে। যত্রতত্র ইঁদুর ও তেলাপোকার বিষ্ঠা ছড়িয়ে থাকতেও দেখা যায়। খোলা পরিবেশে পণ্য তৈরির সময় উঠে এসে ধুলো-বালি পড়ছে। এসব পণ্যই বাহারি মোড়কে বাজারজাত করা হচ্ছে। বেকারিতে তৈরি বিস্কুট, পাউরুটি, কেকসহ অন্যান্য খাদ্য পণ্য এভাবেই চলে যাচ্ছে ভোক্তাদের দুয়ারে।
নিউ ফেমাস ফুড’র অন্য অংশীদার আলী হোসেন বলেন, বেকারির পরিবেশ কিছুটা খারাপ হলেও আমাদের মাল (পণ্য) ভালো। এখানে বাসি কোন পণ্য না থাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকিও নেই। নিজ বেকারি ব্যতিত অন্য নামে পণ্য বাজারজাত ও বিএসটিআই মনোগ্রাম নকল করে অপরাধ করেছি। তবে এটি আর বেশিদিন করবো না। খুব শিগ্রই বেকারি পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সকল অনুমতি (কাগজপত্র) নেওয়া হবে। পূর্বের চেয়ে ভালো করা হবে বেকারির পরিবেশ।
স্থানীয়রা বলেন, বেকারিতে ভেজাল কেমিক্যাল ও নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য পণ্য তৈরি করে থাকে। এসব খাবার খেয়ে অনেক মানুষ আমাশয়সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বিভিন্ন খাদ্যের সঙ্গে কীটপতঙ্গ থাকতে দেখা গেছে। খাদ্যের প্যাকেটে মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ থাকে না। এছাড়া বেকারি পরিচালনার আগে ট্রেড লাইসেন্স, বিএসটিআই, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ, স্যানিটারি ও ট্রেডমার্ক ছাড়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এ প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া কোনটি নেই। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে নিউ ফেমাস ফুডসহ সদরের অন্যান্য বেকারিগুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানাচ্ছি প্রশাসনের প্রতি।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর লক্ষ্মীপুরের সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নুর হোসেন বলেন, ভেজাল খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তারপরও কোথাও অনিয়মহলে অভিযান পরিচালনা করা হবে দ্রুত।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান বলেন, বেকারিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য পণ্য তৈরি ও বাজারজাত করণের বিষয়টি জানা নেই। তবে শিঘ্রই খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শীর্ষ সংবাদ ডেস্ক

শীর্ষ সংবাদ ডেস্ক

শীর্ষ সংবাদ ডেস্ক

সর্বমোট নিউজ: 1081

Share this...
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বে-আইনি।
আরও দেখুন
সর্বশেষ
  • আমাদেরকে ফলো করুন…