লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার দক্ষিন চরবংশী ইউপির মেঘনা নদীর পাড়ে এক সময়ের পরিত্যাক্ত ভূমি। যেখানে ছিল না মানুষের বিচরণ। কিন্তু এখন যদি কেউ এই এলাকায় যায় চোখে পড়বে বদলে যাওয়া দৃশ্যপট। মেঘনার তীরের বিশাল এই চরের মধ্য দিয়ে নির্মিত হচ্ছে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা ব্যায়ে পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ ও দুই লেনের কাঁচা রাস্তা। রাস্তার এই দুই প্রান্তে থাকবে ভবিষ্যতে দুই সেতুর (হাজিমারা ও মেঘনা) সংযোগ।
এই রাস্তা দিয়ে হবে এই প্রথম একমাত্র আলতাফ মাষ্টার লঞ্চঘাট। একটি রাস্তা যে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে কিভাবে আন্দোলিত করতে পারে এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ হতে পারে রায়পুরের দক্ষিনচরবংশী ইউপির হাজিমারা সুইজগেইট থেকে বরিশালের গোবিন্দপুর ভায়াকানি বগা বাজার পর্যন্ত উপকূলীয় বেড়িবাঁধ।
মঙ্গলবার (২২ আগষ্ট) রাস্তাটি সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, পাঁচ কিলোমিটারের রাস্তায় মাটি ভরাটের নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। ড্রামট্রাক দিয়ে দ্রুত গতিতে এক স্থান থেকে মাটি অপর স্থানে পরিবাহিত করা হয়েছে। রোলার দিয়ে আবার চলছে মাটি চাপার কাজ করা হয়। আরেকটি রোলার দিয়ে মাটি সমান করার কাজ। স্কেভেটর দিয়ে চলছে মাটি উত্তোলনের কাজ। অর্থাৎ মাটি উত্তোলন, পরিবহন এবং রাস্তা তৈরির কাজ সমান তালে করা হয়েছে।
আরও পড়ুন- গোবিন্দগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনায় এক শিশু খুন
নির্মাণাধীন রাস্তার পাশের মানুষের অভিব্যক্তি ও তাদের উচ্ছ্বাস, বদলে যাবে পিছিয়ে পড়া এই এলাকাটি। নির্মাণাধীন রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে কাজ দেখছিলেন হাজিমারা এলাকার শাহজাহান মাঝি। ৫৫ বছর বয়সী এ লোক বলেন, ‘হাজিমারা আশ্রায়নকেন্দ্রের ভিতর দিয়ে এই রাস্তা যাতায়াত ব্যবস্থা অনেক সহজতর হবে।’
আশ্রায়নকেন্দ্রের বাসিন্দা জুলহাস মোল্লা ও আশ্রায়নকেন্দ্র স্কুলের প্রধান শিক্ষক চান মিয়া নির্মাণাধীন রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে বলেন, এ রাস্তাটি বাস্তবায়ন হলে আমরা সহজে বরিশালের গোবিন্দপুর ভায়াকানি গ্রামে ও বাজার এলাকায় যাতায়াত করতে পারব। আর এখানে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাজার গড়ে উঠবে বলে এলাকার উন্নতি ঘটবে।
রায়পুর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলতাফ মাষ্টার বলেন, ‘নীজের অর্থায়নে (২০ লক্ষ টাকা) দুইমাস শেষে ৫ কিলোমিটার রাস্তার কাজ শেষ হয়েছে। আমরা অবহেলিত বিশাল চরাঞ্চলবাসীদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, স্যানিটেশান, সুপীয় পানিসহ মৌলিক সুবিধা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগুচ্ছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘একদিকে যেমন যাতায়াত ব্যবস্থায় যোগাযোগ রক্ষা করবে অপরদিকে বিশাল এলাকার মানুষকে জলাবদ্ধতা দুর্ভোগ থেকে রক্ষা করবে। ৫টি খালের মুখে স্লুইস গেট বসছে। এতে জোয়ারের পানি আর প্রবেশ করতে পারবে না। এছাড়া ভবিষ্যতে নৌবন্দর এলাকার দিকে সংযোগ রাস্তা রাখা হচ্ছে।



