আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর চিকিৎসক এস এম মোস্তফা জামানকে হত্যার হুমকি দিয়ে জামায়াত তাদের নোংরা ও সন্ত্রাসী চিন্তার বহিঃপ্রকাশ করেছে বলে মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। বলেছেন, ‘আমি মনে করি, তারা (জামায়াত) যে নোংরা চিন্তা করে, তারা যে সব সময় সন্ত্রাসী চিন্তা করে, তারা যে সব সময় রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চিন্তা করে তারই একটি প্রতিফলন বোধহয় এই হুমকির মধ্য দিয়েই জামায়াত জানান দিয়েছে।’
বুধবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক ডা. এস এম মোস্তফা জামান গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে আমার কাছে এসেছিলেন। তিনি সমস্ত ঘটনা বলেছেন। আমরা এটাও প্রত্যক্ষ করেছি, তিনি একজন চিকিৎসক হিসেবে সেবা দান করেছেন। তার (সাঈদী) চিকিৎসা করেছেন। তারপরও ওই চিকিৎসককে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এটা আমার কাছে আশ্চর্য লাগে।’
আরও পড়ুন- সাঈদীর জানাজাকে কেন্দ্র করে চকরিয়ায় সংঘর্ষ, গুলিতে জামায়াত কর্মী নিহত
আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর চিকিৎসা দেওয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসক এস এম মোস্তফা জামানকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) রাতে এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ওই চিকিৎসক রাজধানীর ধানমন্ডি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
১৭ আগস্ট সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান খান বলেন, বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করার জন্য আপনারা জঙ্গির ‘উদ্যান’ দেখেছেন। বাংলা ভাই ও শাইখ আব্দুর রহমানের মতো অনেক জঙ্গি দেখেছেন। তৎকালীন সরকার (বিএনপি) তখন বলত এগুলো মিডিয়ার সৃষ্টি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আপনারাই দেখেছেন সত্যিকারের জঙ্গির উত্থান। সেভাবেই ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশের ৬৩টি জেলায় একযোগে বোমা হামলার ঘটনা ঘটায় জঙ্গিরা। এ হামলার মধ্য দিয়ে তারা জানান দিয়েছে যে দেশে জঙ্গি রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, এখন আমি এটুকু বলতে পারি যে, জঙ্গি আমরা একবারে নির্মূল করতে পারিনি, কিন্তু জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জঙ্গিগোষ্ঠীর কিছু কিছু ঘুমন্ত সেল এখনো রয়ে গেছে। তারা আত্মপ্রকাশ করার চেষ্টাও করছে। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা অত্যন্ত দক্ষ। তারা জঙ্গিবাদকে নিষ্ক্রিয় করছেন এবং যথাসময়ে জঙ্গিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে।



