রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সার্ভার থেকে ভবন নির্মাণের অনুমোদনসংক্রান্ত প্রায় ৩০ হাজার গ্রাহকের গায়েব হওয়া নথির মধ্যে ২৬ হাজার ৭৭৭ নথি উদ্ধার করা হয়েছে বলে হাইকোর্টকে জানিয়েছে রাজউক।
মঙ্গলবার (২ মে) বিচারপতি মোঃ নজরুল ইসলাম তালুকদারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ তথ্য জানিয়েছে রাজউকের আইনজীবী ইমাম হাসান।
এসময় আইনজীবী ইমাম হাসান আদালতকে জানান, হ্যাকাররা সার্ভার থেকে নথি হ্যাক করেছিল।
এর আগে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সার্ভার থেকে প্রায় ৩০ হাজার গ্রাহকের নথি গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনা অনুসন্ধানে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কমিটিতে দুদকের উপপরিচালক সুভাষ চন্দ্র দত্ত, সহকারী পরিচালক মোঃ আশিকুর রহমান, পরিচালক (সিস্টেম অ্যানালিস্ট) মোঃ রাজিব হাসানকে রাখা হয়েছে। মোঃ রাজিব হাসান কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই কমিটি এরইমধ্যে অনুসন্ধান শুরু করেছে। কমিটি গঠনের কথা জানিয়ে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করা হয়েছে।
আরও পড়ুন- আসুন একসঙ্গে কাজ করি, বিশ্ব ব্যাংককে প্রধানমন্ত্রী
এর আগে, দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মোঃ নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াত লিজুর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে কাগজপত্র হারিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি সত্য কি না এবং ঘটনাটি সত্য হলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে রাজউক চেয়ারম্যানকে দিয়েছিলেন। আদালতে দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান এ বিষয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নথি গায়েবের ঘটনায় সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে কি না, তদন্ত কমিটি তা বের করবে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় কারা জড়িত কিংবা কোনো কারিগরি ত্রুটি ছিল কি না, সেটি অনুসন্ধান করবে কমিটি। পাশাপাশি কেউ ষড়যন্ত্র করে এ ঘটনা ঘটিয়েছে কি না, সেটিও দেখা হবে।
রাজউকের সার্ভার থেকে ভবন নির্মাণের অনুমতি চেয়ে করা প্রায় ৩০ হাজার গ্রাহকের নথি হারিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। গত বছরের ৬ ডিসেম্বর ঘটনাটি জানতে পারে রাজউক কর্তৃপক্ষ।




