গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত, নিবন্ধন নং ১১৪
  1. অন্যান্য
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. আইন-বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চাকরি
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম
  12. নির্বাচন
  13. প্রবাসের খবর
  14. ফিচার
  15. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  16. বিনোদন
  17. বিশেষ প্রতিবেদন
  18. রাজনীতি
  19. শিক্ষাঙ্গন
  20. শেখ হাসিনার পতন
  21. সম্পাদকীয়
  22. সারাদেশ
  23. স্বাস্থ্য
  24. হট আপ নিউজ
  25. হট এক্সলুসিভ
  26. হাই লাইটস

আজ পয়লা ফাল্গুন; আর তাইতো এসেছে বসন্ত

জে এম আলী নয়ন
ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ ৬:১১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বাংলা বর্ষপঞ্জির একাদশ মাসের সূচনায় আজ পহেলা ফাল্গুন। ঋতুচক্রের পরিবর্তনের এই দিনে প্রকৃতিতে আসে বসন্তের প্রথম স্পর্শ। কাকডাকা ভোরে সূর্যের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে শীতের অবশিষ্ট হিমেল আবহাওয়াকে পেছনে ফেলে উষ্ণতার মৃদু ইঙ্গিত ছড়িয়ে পড়ে বাতাসে। একই দিনে আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১৪ ফেব্রুয়ারি পালিত হচ্ছে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। ফলে এ বছরও দেশে তৈরি হয়েছে দ্বৈত উৎসবের আমেজ—প্রকৃতির নবজাগরণ এবং মানবিক আবেগের প্রকাশ যেন একসূত্রে গাঁথা হয়েছে।

প্রকৃতিতে বসন্তের আগমন

শীতের রুক্ষতা কাটিয়ে বসন্ত প্রকৃতিকে নতুন সাজে সাজিয়ে তোলে। নগর থেকে গ্রাম—সবখানেই দেখা যায় পরিবর্তনের স্পষ্ট ছাপ। কচি পাতার সবুজ আভা, শিমুল-পলাশের অগ্নিরঙা পুষ্প, কৃষ্ণচূড়ার লাল ছটা এবং আম্রকুঞ্জে মুকুলের গন্ধ মিলিয়ে প্রকৃতি যেন নতুন জীবনগান গায়। দখিনা হাওয়ার মৃদু স্পর্শে পরিবেশে আসে এক উষ্ণ আবেশ।

রাজধানীর পার্ক ও উদ্যানগুলোতে এখন ফুটেছে নানা রঙের ফুল। রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান কিংবা বিভিন্ন আবাসিক এলাকার বৃক্ষরাজিতে বসন্তের রূপ স্পষ্ট। গ্রামবাংলায় সর্ষে ক্ষেতের হলুদ রঙ কিছুটা ফিকে হলেও আমগাছে মুকুলের গন্ধ জানান দিচ্ছে ঋতু পরিবর্তনের বার্তা। সারা বছর নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে থাকা শিমুলগাছ হঠাৎই লাল ফুলে ভরে ওঠে; পলাশের আগুনরাঙা ছটা দূর থেকে চোখে পড়ে। পুকুরপাড়ে ঝরে পড়া শজনে ফুল কিংবা শুকনো পাতার মচমচ শব্দও বসন্তের আগমনের জানান দেয়।

নগরজীবনে উৎসবের আবহ

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিল্পকলাকেন্দ্রে পহেলা ফাল্গুন উপলক্ষে রয়েছে নানা আয়োজন। সকালে সূর্যোদয়ের পর থেকেই বসন্তবরণ অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও সংগীতানুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনটি উদ্‌যাপন করা হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে বসন্ত উৎসব উদ্‌যাপনের যে ধারা নব্বইয়ের দশকে নতুন মাত্রা পেয়েছিল, তা এখন নগর সংস্কৃতির অন্যতম অংশ। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রঙিন পোশাক, ফুল ও সংগীতের মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে শুভেচ্ছা বিনিময়। অনেকে পরিবার, বন্ধু ও প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। যদিও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস হিসেবে পরিচিত, বাংলাদেশে বসন্তের সঙ্গে দিনটি মিলিত হওয়ায় এর রূপ পেয়েছে ভিন্ন মাত্রা।

বসন্ত উৎসবের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশে পহেলা ফাল্গুন উদ্‌যাপনের ইতিহাস দীর্ঘ। ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, মুঘল আমলে সম্রাট আকবরের সময়েও বসন্ত উৎসবের প্রচলন ছিল। পরবর্তী সময়ে বাঙালি সমাজে এটি সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়।

বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে বাংলা সংস্কৃতি চর্চার অংশ হিসেবে পহেলা ফাল্গুন উদ্‌যাপন আনুষ্ঠানিক রূপ পেতে শুরু করে। পাকিস্তান আমলে সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের অংশ হিসেবেও এ উৎসব গুরুত্ব পায়। রবীন্দ্রসঙ্গীত, কবিতা আবৃত্তি এবং বাঙালি পোশাক-পরিচ্ছদের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়ের প্রকাশ ঘটানো হতো।

১৯৯১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে বসন্ত উৎসব পুনরায় জোরালোভাবে শুরু হলে তা দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে। এরপর থেকে এটি শহুরে সংস্কৃতির বার্ষিক অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে।

ভালোবাসা দিবসের উৎস

১৪ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ হিসেবে। ইতিহাসবিদদের মতে, প্রাচীন রোমান ঐতিহ্য থেকে এ দিনের সূত্রপাত। সেন্ট ভ্যালেন্টাইন নামের এক ধর্মযাজককে স্মরণ করে দিনটি পালিত হয় বলে ধারণা করা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি বিশ্বজুড়ে সম্পর্ক ও আবেগ উদ্‌যাপনের দিনে পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশে ভালোবাসা দিবস মূলত নব্বইয়ের দশক থেকে জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। বসন্তের সঙ্গে একই দিনে পালিত হওয়ায় এটি পেয়েছে স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক রূপ। অনেকেই এ দিনটিকে শুধু প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পরিবার ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক উদ্‌যাপনের মাধ্যম হিসেবেও দেখেন।

ফাল্গুনের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য

ফাল্গুন কেবল প্রকৃতির রঙিন মাস নয়; এটি বাঙালির ইতিহাসের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি এ মাসকে দিয়েছে আলাদা তাৎপর্য। ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারিতে মাতৃভাষার দাবিতে জীবনদানকারী শহীদদের আত্মত্যাগ ফাল্গুনের স্মৃতিকে গভীর করেছে।

শিমুল-পলাশের লাল রঙ অনেকের কাছে ভাষা শহীদদের রক্তের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়। সেই ইতিহাস পরবর্তীকালে স্বাধীনতার আন্দোলনেও প্রেরণা জুগিয়েছে। ফলে ফাল্গুন বাঙালির কাছে একই সঙ্গে প্রেম, প্রতিবাদ ও নবজাগরণের মাস।

ঋতুচক্র ও পরিবেশের চ্যালেঞ্জ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঋতুচক্রের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। কখনো শীত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, কখনো বসন্তের স্থায়িত্ব কমে আসছে। নগরায়ণ ও বৃক্ষনিধনের ফলে শিমুল-পলাশের মতো গাছ ক্রমেই কমে যাচ্ছে। তবুও প্রতি বছর ঋতুরাজ বসন্ত তার নিজস্ব রূপ নিয়ে ফিরে আসে—এ যেন প্রকৃতির পুনর্জন্মের বার্তা।

নবজাগরণের প্রতীক

ফাল্গুনের পর চৈত্রে প্রকৃতি আবার রূপ বদলায়। উষ্ণতা বাড়ে, রোদ তীব্র হয়। কিন্তু এই পরিবর্তনই প্রকৃতির স্বাভাবিক চক্র। বসন্ত আমাদের মনে করিয়ে দেয়—জড়তা কাটিয়ে নতুনের পথে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে।

সব মিলিয়ে, পহেলা ফাল্গুন ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের সমাপতন বাংলাদেশে তৈরি করেছে এক অনন্য আবহ। প্রকৃতির রঙ, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ঐতিহাসিক স্মৃতি এবং মানবিক আবেগ—সব মিলিয়ে দিনটি পরিণত হয়েছে বহুমাত্রিক তাৎপর্যের এক জাতীয় উপলক্ষে।

বসন্তের এই প্রথম দিনে প্রত্যাশা—নতুন প্রাণশক্তি, নতুন উদ্যম এবং নতুন আশায় এগিয়ে যাক সমাজ ও সংস্কৃতি।

শীর্ষ সংবাদ | নয়ন

জে এম আলী নয়ন

জে এম আলী নয়ন

সাব এডিটর

সর্বমোট নিউজ: 6248

Share this...
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বে-আইনি।
আরও দেখুন
সর্বশেষ
  • আমাদেরকে ফলো করুন…