নরসিংদীরি ড্রিম হলিডে পার্কে ‘ফ্যামিলি ডে’ উদযাপনে যাওয়া ঢাকার একদল সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওই ঘটনায় জড়িত সকলকেই চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জেলার পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ্-আল-ফারুক জানিয়েছেন।
দেশের অপরাধবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সদস্যরা সোমবার নরসিংদীর মাধবদীতে ড্রিম হলিডে পার্কে ফ্যামিলি ডে উদযাপনে গেলে ফেরার সময় তাদের একটি দলের ওপর ধারালো অস্ত্র এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা করে স্থানীয় সন্ত্রাসী গ্রুপ। এ ঘটনায় ১০ জনের মতো সাংবাদিক আহত হন।
ওই ঘটনায় মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত মো. আলাল সরকার, রনি মিয়া ও মোহাম্মদ রিফাত মিয়া নামে তিনজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে পুলিশ।
ক্র্যাবের একজন মুখপাত্র বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় ‘ফ্যামিলি ডে’ শেষে ক্র্যাব সদস্যদের ঢাকায় ফেরার বাসগুলো ড্রিম হলিডে পার্কের সামনে রাখা ছিল। এ সময় স্থানীয় একদল সন্ত্রাসী বাস পার্কিংয়ের জন্য সাংবাদিকদের কাছে চাঁদা দাবি করে। সাংবাদিকরা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। তাতে ১০ জন আহত হন।
পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ-আল-ফারুক বলেন, ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ভিডিও দেখে হামলাকারী সবাইকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমও ঘটনাটি জেনে জড়িতদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন।
আর ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক বলছেন, হামলাকারীরা যে দলের কিংবা যারাই হোক, তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে, সেজন্য কাজ করছে পুলিশ।
এ ঘটনায় হামলাকারী স্থানীয় চাঁদাবাজদের তালিকা করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে ক্র্যাবের সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল বলেন, সাংবাদিকদের ওপর এই হামলা পরিকল্পিত। চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদ করায় হামলার ঘটনা প্রমাণ করে সন্ত্রাসীরা কতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
ক্র্যাব সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), রিপোর্টার্স এগেইনস্ট করাপশন (র্যাক), ল রিপোর্টার্স ফোরাম (এলআরএফ), পলিটিকাল রিপোর্টারস ফোরাম এবং বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরাম।



