সোমবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলের পর পরই দেশের উপকুলীয় অঞ্চলসহ সারাদেশে প্রচন্ড গতিতে বইতে শুরু করে সিত্রাং ঝড়। এর প্রভাব কুড়িগ্রামের উলিপুরেও লক্ষ্য করা যায়। বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে উলিপুরে কৃষকের উৎপাদিত ধানের প্রায় ২৫ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে আধা-পাকা ধান গাছ। মাটিতে লুটিয়ে পড়া ধান গাছের গোড়ায় জমা পানিতে ধানগাছ পঁচতে শুরু করায় চিন্তিত হয়ে পড়েছে কৃষক।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলমান অর্থ বছরে ২৪হাজার ৭শত হেক্টর জমিতে আমান আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা ২৪হাজার ৫শত ৫০ হেক্টর ধরা হয়েছে। যার মধ্যে হাইব্রডি ১হাজার হেক্টর, উফষি ২১হাজার ১শত, স্থানীয় জাত রয়েছে ২হাজার ৬শত। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, আমন আবাদ, শাক-সবিজ, ছোট-ছোট ঘরবাড়ি, বিদ্যুৎবিভ্রাটসহ বেশ ক্ষতি হয়েছে এই অঞ্চলের মানুষের।
নারিকেল বাড়ির কৃষক হাছান আলী তাঁর ৩৮ শতাংশ জমিতে ফসল উৎপাদন করেছে, তাঁর অর্ধেকই মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। একই এলাকার কৃষক মাঈদুল, ইব্রাহিম, আনোয়াল, দলদলিয়া, হাতিয়া, বজরা এলাকার কৃষক নুরু, বেলাল, জলিল, আব্দুল করিম জানান- ব্যয়ের সাথে উৎপদানের হিসেব করলে সেই অনুযায়ি বাজারে ধানের দাম পাই না, তাতে আবার সিত্রাংয়ের আঘাত।
আরও পড়ুন- অবসরে গেলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব
তারা আরও জানান, ফসলে শীষ আসতে শুরু করেছে, কোথাও অর্ধ পাকাও ধরেছে। এই অবস্থায় সিত্রাং আমাদের ব্যাপক ক্ষতি করলো। আমনের আবাদের সাথে অনেকের শাক-সবজির ক্ষেতেরও প্রচুর ক্ষতি হয়েছে।
কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলায় অবস্থিত আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সবুর হোসেন জানান, সোমবার সন্ধ্যা থেকে সিত্রাংয়ের প্রভাবে মোঙ্গলবার পর্যন্ত বাতাস ও গুড়িগুড়ি বৃষ্টির কারণে জেলার অনেকগুলো উপজেলার ফসলের বেশ ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুকিত বীন লিয়াকত জানান, সিত্রাংয়ের আঘাতে যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তার একটি তালিকা জেলা কৃষি অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের জন্য কোন ধরনের সহযোগিতা পেলে কৃষকের হাতে সেটি পৌঁছে দেয়া হবে।



