শিক্ষকদের রাজনীতি ছেড়ে দিয়ে পাঠদানে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান। তিনি বলেছেন, ‘আগে স্কুলে পড়ালেখা হয় নাই, এখনো হবে না—এটা হতে পারে না। আমাদের সরকার সব ধরনের সাহায্য করবে, কিন্তু আপনারাও আপনাদের সার্ভিস দেবেন। শিক্ষক শিক্ষকতা করেন, আপনাদের রাজনীতি করার দরকার নেই। রাজনীতি ভোটের তিন মাস আগে কইরেন। আপাতত যার যার দায়িত্ব পালন করেন।’
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় ‘কমলনগর গর্ব সম্মাননা পদক’, কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও হুইল চেয়ার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ‘সানরাইজ ক্লাব’ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে হুইপ নিজান বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে। এটা শুধু মুখে বললে হবে না, সবাই মিলে কাজ করতে হবে। বাজারে লোক লাঠি নিয়ে দৌড়ালে আর মাদক থাকতে পারে না। প্রতিটি স্কুলে স্কুলে এই বার্তা পৌঁছে দিতে হবে।’
দেশের রাজস্ব আদায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের সাধারণ ও গরিব মানুষরাই রাজস্ব দেয়। বড়লোকেরা রাজস্ব দেয় না, তারা ফাঁকি দেয়। তারা জানে কীভাবে রাজস্ব ও ট্যাক্স কম দিতে হয়।’
অনুষ্ঠানে সম্মাননা পদকটি সরকারিভাবে দেওয়ার জন্য আয়োজকদের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়। এর প্রেক্ষিতে হুইপ বলেন, ‘আমরা আমাদের ক্ষমতা অজান্তেই সরকারের কাছে দিয়ে দিই। আপনারা যে মহৎ কাজ করছেন, তা যদি কাল ইউএনও সাহেব টেকওভার করেন, তখন কি আপনারা আপনাদের মতো স্বাধীনভাবে করতে পারবেন? পারবেন না। সরকার আপনাদের সহযোগিতা করতে পারে, কিন্তু আমাদের হাতে তুলে দিলে এটি পুরোপুরি সরকারিকরণ হয়ে যাবে।’
সানরাইজ ক্লাবের সভাপতি ওসমান গনি বিপ্লবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাহাত উজ জামান, কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল আলম, কমলনগর উপজেলা বিএনপি সভাপতি নুরুল হুদা চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক দিদার হোসেন।
চন্দ্রগঞ্জ কামিল মাদরাসার প্রভাষক আনোয়ার হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমির আবুল খায়ের ও সেক্রেটারি আকরাম হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
প্রসঙ্গত, সানরাইজ ক্লাবের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানে কমলনগরের ৯ জন গুণী ব্যক্তিকে ‘কমলনগর গর্ব সম্মাননা পদক’ প্রদান করা হয়। এছাড়া ৬ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা এবং ১৪ জন প্রতিবন্ধীকে হুইলচেয়ার প্রদান করা হয়।


