আজ থেকে বহুল আলোচিত সর্বজনীন পেনশনব্যবস্থা চালু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের ভবিষ্যৎ জীবনের কথা বিবেচনা করে এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) সকালে তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব মোঃ তোফাজ্জল হোসেন মিয়া। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব ফাতেমা ইয়াসমিন।
এর আগে সব নাগরিককে পেনশনের আওতায় আনতে গত ২৪ জানুয়ারি সংসদে ‘সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা বিল ২০২৩’ পাস হয়।
বিলে ১৮ বছর থেকে ৫০ বছর বয়সী সব নাগরিকের নির্ধারিত হারে চাঁদা পরিশোধ করে ৬০ বছর পূর্তির পর আজীবন পেনশন সুবিধা ভোগ করার বিধান রাখা হয়।
আরও পড়ুন- উলিপুরে মাদরাসায় নিয়োগের আবেদন জমা নিতে গড়িমসি
পেনশন কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইট চালু হয়েছে গতকাল বুধবার। ওয়েবসাইটের ঠিকানা www.upension.gov.bd। এতে বলা হয়েছে, ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণ করে আপনার ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।
ওয়েবসাইটের ঠিকানায় পেনশন স্কিমগুলো সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য উল্লেখ করা আছে
এই পেনশন ব্যবস্থার মাধ্যমে আগামী দিনে বেসরকারি চাকরি থেকে অবসরে গিয়েও পেনশন সুবিধা ভোগ করা যাবে। তবে এ স্কিম থেকে বাদ পড়ছেন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধাপ্রাপ্ত ১ কোটি ৩৮ লাখ মানুষ। তাদের সবাই নগদ ভাতার সুবিধা পাচ্ছেন।
পেনশন স্কিমে অংশ নিতে হলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা সমর্পণ করতে হবে। অন্যথায় এ স্কিমে যুক্ত হতে পারবে না। একই সঙ্গে কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীরাও আপাতত এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারছেন না। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বকর্মে নিয়োজিত ও স্বল্প-আয়ের নাগরিক ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা এতে অংশ নিতে পারবেন।
জানা যায়, বিভিন্ন ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি রয়েছে। এর মধ্যে সরকার থেকে নগদ আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন ১ কোটি ৩৮ লাখ মানুষ। এছাড়া খাদ্য সহায়তা পাচ্ছেন ৩ কোটি ৬৭ লাখ জন। এর বাইরে আরও বিভিন্ন ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি রয়েছে। চলতি অর্থবছরে শুধু নগদ আর্থিক সহায়তা কর্মসূচিতে বরাদ্দ আছে ৪৩ হাজার কোটি এবং খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে আছে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া অন্যান্য কর্মসূচিতেও বড় ধরনের বরাদ্দ আছে।
আরও পড়ুন- রামগড়ে বিজিবির অভিযানে লেডিস গার্মেন্টস কাপড় জব্দ
সম্প্রতি জারি হওয়া সর্বজনীন পেনশন স্কিম বিধিমালায় ধারা (৪)-এর উপধারা (৩)-এ বলা হয়েছে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতাভুক্ত ব্যক্তিরা এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন। তবে শর্ত হচ্ছে-এ স্কিমে অংশ নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা সমর্পণ করতে হবে।
এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত অর্থ বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, সরকার আগামী দিনে পর্যায়ক্রমে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি থেকে বেরিয়ে আসবে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির চাপ তুলে দিয়ে সর্বজনীন পেনশন স্কিমে নিয়ে আসা হবে।
প্রসঙ্গত, জাতীয় সংসদের গত অধিবেশনে ‘সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৩’ পাশ হয়। ৩১ জানুয়ারি আইনটিতে সম্মতি দেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ। পরে ১৩ আগস্ট এর বিধিমালা জারি করা হয়।



