লক্ষ্মীপুর সদর পৌরসভার (১০নং ওয়ার্ড) কাউন্সিলর মো. জসিম উদ্দিনের আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী আছমা আক্তার। এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচারের দাবি করছে ভুক্তভোগী স্বামী-স্ত্রী।
শুক্রবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টা ১০ মিনিটে মুঠোফোনে পুলিশ সুপার মাহফুজ্জামান আশরাফ মুঠোফোনে বিষয়টি শুনে ভুক্তভোগী স্বামী-স্ত্রীকে সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হবে।
তরিকুল ইসলাম কুমিল্লা গ্রামীণ ব্যাংক শাখার অডিট অফিসার ও তার স্ত্রী আছমা আক্তার লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররুহিতা গ্রামীণ ব্যাংক শাখার ফিল্ড অফিসার।
অভিযোগ রয়েছে, বৃহস্প্রতিবার বিকেলে পৌরসভার (১০নং ওয়ার্ড) দক্ষিণ মজুপুর ডিবি রোড় সংলগ্ন ওই ব্যাংক কর্মকর্তার নবনির্মিত বাড়ির বাউন্ডারি ওয়াল কাউন্সিলর জসিমের নেতৃত্বে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল।
ব্যাংকার তরিকুল ও তার স্ত্রী আছমা আক্তার সাংবাদিকদের জানান, ২০১৪ সালে মজুপুর গ্রামে জমি খরিদ করে বাউন্ডারি ওয়াল সীমানা-প্রাচীর নির্মাণ করেন। ২০২২ সালের শেষের দিকে ওইজমিতে ১তলা একটি বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেন। বাড়ির কাজ করতে গেলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জসিম তাদেরকে নানাভাবে হয়রানি করে আসছে। একপর্যায়ে জসিম দাবি করছে ইট-বালু, রড-সিমেন্ট ও নির্মাণ শ্রমিক কাউন্সিলর জসিম দিবেন। তা না হলে অন্য কোনো ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নির্মাণসামগ্রী ক্রয়সহ অন্য কোন শ্রমিক দিয়ে কাজ যাবে না বলে হুমকি দেয়। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার বিকেলে জসিমের নেতৃত্বে আলাউদ্দিন, বকু মিয়া, আক্তার, খোকন ও রুবেলসহ একটি সংঘবদ্ধ-দলবল এসে তাদের বাউন্ডারি ওয়ালটি ভেঙে দেয়। হামলাকারীদের ভয়ে ব্যাংকার তরিকুল ইসলাম তখন তাদের আতঙ্কে আত্মগোপন করেন।
জানতে চাইলে ১০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জসিম উদ্দিন বলেন, কে বা কারা বাউন্ডারি ওয়াল ভাঙচুর করছে আমার জানা নেই। এখন অযথা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে তার বিরুদ্ধে কেনো অপপ্রচার চালাচ্ছে এমন প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে পারেননি তিনি।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোসলেহ উদ্দিন জানান, বিষয়টি শুনছেন তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ জমা দেয়নি।


