গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত, নিবন্ধন নং ১১৪
  1. অন্যান্য
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. আইন-বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চাকরি
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম
  12. নির্বাচন
  13. প্রবাসের খবর
  14. ফিচার
  15. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  16. বিনোদন
  17. বিশেষ প্রতিবেদন
  18. রাজনীতি
  19. শিক্ষাঙ্গন
  20. শেখ হাসিনার পতন
  21. সম্পাদকীয়
  22. সারাদেশ
  23. স্বাস্থ্য
  24. হট আপ নিউজ
  25. হট এক্সলুসিভ
  26. হাই লাইটস

সিসিটিভি প্রকল্পে ‘৩ লাখের খেলা’!

তাবারক হোসেন আজাদ
এপ্রিল ২৮, ২০২৬ ৩:০৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নির্বাচনী নিরাপত্তার নামে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় সিসিটিভি স্থাপন প্রকল্পে চলছে ‘৩ লাখের খেলা’—এমন বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে একাধিক ইউনিয়ন পরিষদ থেকে। সরকারি বরাদ্দের বাইরেও কয়েকটি ইউনিয়নে ৩ লাখ টাকা করে আদায়, বিল স্বাক্ষরে চাপ এবং কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্নে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে সংশ্লিষ্টদের মাঝে। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি এখনই নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনা না হলে প্রকৃত চিত্র আড়ালেই থেকে যাবে।

গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে সদর উপজেলার ১৯৯টি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সরকারি হিসেবে কয়েকটি ইউনিয়নের ১১৫টি কেন্দ্রের জন্য বরাদ্দ আসে ৩৭ লাখ ৭২ হাজার টাকা। নির্বাচন কমিশনের প্রাক্কলন অনুযায়ী, প্রতি কেন্দ্রে ২ থেকে ৬টি ক্যামেরা বসাতে ব্যয় ধরা হয় ৩২ হাজার ৮০০ টাকা।

কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ৯টি ইউনিয়নের ৮৪টি কেন্দ্রে সিসিটিভি বসানোর নামে ইউনিয়ন পরিষদের ১ শতাংশ কর তহবিল থেকে ইউনিয়ন প্রতি ৩ লাখ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। অর্থাৎ, যেখানে কেন্দ্র প্রতি সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ৩০-৩৫ হাজার টাকা, সেখানে দেখানো হয়েছে কয়েক গুণ বেশি।

জানা গেছে, গত জানুয়ারিতে জেলা ও উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে অগ্রিম বিল হিসেবে অর্থ উত্তোলন করা হয়। জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. জাহেদুল হক অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও বিস্তারিত তথ্য দিতে ঊর্ধ্বতন অনুমতির কথা জানান।

একাধিক ইউনিয়ন সচিব ও চেয়ারম্যানের অভিযোগ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের অফিস সহকারী তৌহিদুল ইসলাম ইউএনওর নাম ব্যবহার করে ইউনিয়ন প্রতি ৩ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছেন। প্রকল্প বাস্তবায়নে চেয়ারম্যানদের কার্যকর ভূমিকা ছিল না বলেও দাবি তাদের। বরং বিল স্বাক্ষরে অনীহা দেখালে পদ হারানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগও উঠেছে।

দক্ষিণ হামছাদি ইউনিয়নের সচিব গাজী আব্বাস উদ্দিন বলেন, “৮ ফেব্রুয়ারি তিন লাখ টাকা নগদ দিতে হয়েছে। অন্য ইউনিয়নেও একইভাবে নেওয়া হয়েছে। পরিষদের মতামত বা সিদ্ধান্তের সুযোগ ছিল না।”

টুমচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ নুরুল আমিন বলেন, “আমার ইউনিয়নে চারটি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এর জন্য তিন লাখ টাকা দিতে হয়েছে। শুধু আমাদের নয়, প্রায় সব ইউনিয়নেই একই চিত্র।”

অভিযোগ আরও রয়েছে—কিছু কেন্দ্রে আগে থেকেই সিসিটিভি থাকলেও নতুন করে বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। আবার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থানে ক্যামেরা বসানো না হলেও কাগজে কাজ সম্পন্ন দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিতকরণ এবং ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব প্রকাশ না হওয়ায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে অফিস সহকারী তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “১১৫টি কেন্দ্রের জন্য সরকার বাজেট দিয়েছে। বাকি ৮৪টি কেন্দ্রে বাজেট না থাকায় পরিষদ থেকেই কাজ করা হয়েছে। ইউএনও স্যারের সঙ্গে কথা বললেই বিস্তারিত জানা যাবে।”

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা দাবি করেন, “প্রকল্পটি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। কোনো দুর্নীতি হয়নি।”

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মেজবা উল আলম ভূঁইয়া বলেন, “আইনশৃঙ্খলা কমিটির অনুমোদন ছিল। ইউনিয়নের ১ শতাংশ তহবিল থেকে অর্থ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। অনিয়মের অভিযোগ এলে তদন্ত করে দেখা হবে।”

তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে—যেখানে সরকারি প্রাক্কলিত ব্যয় ৩২ হাজার ৮০০ টাকা, সেখানে ইউনিয়ন প্রতি ৩ লাখ টাকা করে আদায়ের যৌক্তিকতা কী? কে নির্ধারণ করেছেন এই ব্যয়? অতিরিক্ত অর্থ কোথায় গেছে?

স্থানীয়দের ভাষায়, “নিরাপত্তার নামে যদি অর্থের অপচয় বা আত্মসাৎ হয়ে থাকে, তবে তা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়—গণতন্ত্রের সুরক্ষার প্রশ্নেও উদ্বেগজনক।”

এখন দেখার বিষয়—অভিযোগগুলো কি প্রশাসনিক তদন্তে আলোর মুখ দেখবে, নাকি ‘৩ লাখের খেলা’ আড়ালেই থেকে যাবে।

Editor

Editor

সম্পাদক

সর্বমোট নিউজ: 272

Share this...
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বে-আইনি।
আরও দেখুন