গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত, নিবন্ধন নং ১১৪
  1. অন্যান্য
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. আইন-বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চাকরি
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম
  12. নির্বাচন
  13. প্রবাসের খবর
  14. ফিচার
  15. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  16. বিনোদন
  17. বিশেষ প্রতিবেদন
  18. রাজনীতি
  19. শিক্ষাঙ্গন
  20. শেখ হাসিনার পতন
  21. সম্পাদকীয়
  22. সারাদেশ
  23. স্বাস্থ্য
  24. হট আপ নিউজ
  25. হট এক্সলুসিভ
  26. হাই লাইটস

হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ পর্যালোচনায় দিল্লি

নিজস্ব প্রতিবেদক :
এপ্রিল ২৬, ২০২৬ ৪:৪৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ভারতে আশ্রয় নেওয়া ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণে বাংলাদেশের করা আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পর্যালোচনা শুরু করেছে ভারত সরকার। বিশ্লেষকেরা বলছেন, অনুরোধটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান না করে পর্যালোচনায় দিল্লির এই সম্মতি ইঙ্গিত দেয় যে, ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন কমাতে দেশটি কিছুটা নমনীয় অবস্থান নিচ্ছে। তবে পর্যবেক্ষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, এর মানে এই নয় যে নয়াদিল্লি এখনই শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরে প্রস্তুত।

২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার প্রবল গণ-আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলে শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি নিশ্চিত করেছে যে, তারা ঢাকার পক্ষ থেকে পাঠানো প্রত্যর্পণ অনুরোধটি আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যালোচনা করছে।

ভারতের আগের অনড় অবস্থান থেকে এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এমন এক সময়ে এই ঘোষণা এল, যখন দিল্লি একদিকে আন্তর্জাতিক আইনি দায়বদ্ধতা এবং অন্যদিকে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্থিতিশীল করার চেষ্টার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন।

দিল্লির ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক অভিনভ মেহরোত্রা বলেন, ভারতের ‘সক্রিয়ভাবে পর্যালোচনা’ করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি মূলত একটি প্রক্রিয়াগত ভাষা। তিনি বলেন, “সরকারগুলো প্রায়ই সরাসরি কোনো প্রতিশ্রুতি না দিয়ে উন্মুক্ত মনোভাবের ইঙ্গিত দিতে এ ধরনের ভাষা ব্যবহার করে। সরাসরি প্রত্যাখ্যানের তুলনায় এটি কিছুটা নমনীয় অবস্থানের ইঙ্গিত দিলেও ভারত তাকে হস্তান্তর করতে কতটা প্রস্তুত, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যায় না।”

শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি ঘটেছিল একটি সহিংস গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে। গত বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। সাধারণত ভারত মানবিক কারণ ও আইনি সীমাবদ্ধতা দেখিয়ে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হওয়া ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণ এড়িয়ে চলে।

সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট অব সাউথ এশিয়ান স্টাডিজের গবেষণা ফেলো অমিত রঞ্জন মনে করেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ আইনি বিষয়ের চেয়ে অনেক বেশি রাজনৈতিক ইস্যু। তার মতে, ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি গুরুত্বপূর্ণ। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, ভারত দুই দেশের রাজনৈতিক সমস্যাগুলো পেশাদার কূটনীতিকের বদলে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে সমাধান করতে আগ্রহী।

তবে ভারতের জন্য বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতি। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভারতের প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তাকে দিল্লি সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

গোয়ার মন্ত্রায়া ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের প্রতিষ্ঠাতা শান্থি ম্যারিয়েট ডি’সুজা মনে করেন, ভারতের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হচ্ছে আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করা। তিনি বলেন, “শেখ হাসিনাকে ঢাকার কাছে সমর্পণ করা মানে কার্যত আওয়ামী লীগের অবসান ঘটানো। ঢাকা যদি ভবিষ্যতে ভারতবিরোধী অবস্থানে ফিরে যায়, তবে শেখ হাসিনা দিল্লির জন্য সব সময়ই একটি কৌশলগত সম্পদ হয়ে থাকবেন।”

অভিনভ মেহরোত্রার মতে, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াটি ভারতের ‘এক্সট্রাডিশন অ্যাক্ট ১৯৬২’-এর অধীনে পরিচালিত হবে। বাংলাদেশ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাওয়ার পর দিল্লি তা পর্যালোচনা করবে এবং আদালত দেখবে এর আইনি ভিত্তি কতটুকু। শেখ হাসিনা চাইলে আদালতে এই অনুরোধ চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ পাবেন। তবে আদালত সম্মতি দিলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি হবে রাজনৈতিক। ভারত সরকার চাইলে যেকোনো সময় এই প্রত্যর্পণ অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করতে পারে।

Editor

Editor

সম্পাদক

সর্বমোট নিউজ: 267

Share this...
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বে-আইনি।
আরও দেখুন
  • আমাদেরকে ফলো করুন…