লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার প্রায় সাত লাখ মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা ৩১ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এই জনপদের অর্ধেকই শিশু। অথচ হাসপাতালে ১৪ জন মেডিকেল অফিসার থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের সমন্বিত রোগ ব্যবস্থাপনা (আইএমসিআই) কর্নার চলছে চিকিৎসক সহকারীদের (স্যাকমো) দিয়ে। এতে সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিশুরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামনাশিস মজুমদার হাসপাতালের ডিউটি রোস্টার তৈরি করেন। কিন্তু গত চার বছর ধরে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে আইএমসিআই কর্নারে কোনো চিকিৎসককে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে না। সেখানে স্যাকমোরই শিশুদের ব্যবস্থাপত্র দেওয়া, রোগী দেখা, হাসপাতালে ভর্তির সিদ্ধান্ত ও ল্যাবে পরীক্ষার পরামর্শসহ সব গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছেন।
গত ২৬ এপ্রিল (রোববার) সরেজমিনে হাসপাতালটির আইএমসিআই কর্নারে গিয়ে দেখা যায় শিশুদের উপচে পড়া ভিড়। সেখানে শিশুদের চিকিৎসা দিচ্ছিলেন হাসপাতালের ইমারজেন্সি ইনচার্জ মেজবাহ উদ্দিন। আইএমসিআই কর্নারে চিকিৎসকের ডিউটি রোস্টার না থাকার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘এখানে চিকিৎসকদের কোনো রোস্টার নেই, আমাদেরই শিশু রোগী দেখতে হয়।’
ভুক্তভোগী জাবের আলী বলেন, ‘আমার বাচ্চা তিন দিন ধরে অসুস্থ। সকালে বড় ডাক্তার দেখাতে নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু এখানে কোনো বড় ডাক্তার নেই, তাই ফিরে যাচ্ছি।’ জান্নাতুল নামের আরেক মা বলেন, ‘বাবুর খুব জ্বর। এখানে ডাক্তার না থাকায় এখন নোয়াখালী নিয়ে যেতে হবে।’
হাসপাতালের ইনডোরে চিকিৎসাধীন ২৯ জন শিশুর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা আইএমসিআই কর্নারে কখনো চিকিৎসকের উপস্থিতি দেখেননি। সব সময় স্যাকমোর কাছ থেকেই চিকিৎসাসেবা নিতে হচ্ছে। ফলে সচেতন অভিভাবকেরা বাধ্য হয়ে সন্তানদের জেলা শহর বা বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে সাধারণ মানুষ আর্থিক ও স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন মেডিকেল অফিসার জানান, আইএমসিআই কর্নারে তাঁদের কোনো ডিউটি রোস্টার দেওয়া হয় না।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামনাশিস মজুমদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তাকে (আরএমও) ডা. নিশাদ হোসেনকে আগামী দিন থেকে রোস্টার তৈরির নির্দেশ দেন।
লক্ষ্মীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবু মোহাম্মদ শাহিন বলেন, ‘সহকারী দিয়ে শিশুদের চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়টি আমি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সাথে কথা বলে দেখছি।’
সচেতন মহল মনে করছেন, দেশে যখন বিভিন্ন শিশুতোষ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে, তখন হাসপাতালে এত সংখ্যক চিকিৎসক থাকা সত্ত্বেও তাঁদের দায়িত্ব না থাকাটা চরম অবহেলা ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ।


