যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট মায়ার্স শহরে ইয়াসমিন চৌধুরী (৪৮) নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশি নারীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও শোক জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আজ শুক্রবার দুপুরে এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ঘটনার নিন্দা জানান। তিনি নিহত ইয়াসমিনের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনকে এই বর্বরোচিত হামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
নিহত ইয়াসমিন চৌধুরী লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ১৮ নম্বর কুশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন মানিকের ছোট বোন। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করে আসছিলেন।
স্থানীয় পুলিশ ও সিসিটিভি ফুটেজ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল সাতটার দিকে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে হামলার শিকার হন ইয়াসমিন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, লস অ্যাঞ্জেলেস লেকার্সের ২৪ নম্বর লেখা একটি হলুদ রঙের বাস্কেটবল জার্সি পরা এক কৃষ্ণাঙ্গ যুবক হাতে বড় একটি হাতুড়ি নিয়ে ইয়াসমিনের ওপর উপর্যুপরি আঘাত করেন। হামলার পর ইয়াসমিন রক্তাক্ত অবস্থায় দোকানের সামনে লুটিয়ে পড়লে ঘাতক স্বাভাবিক ভঙ্গিতে হেঁটে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। ফ্লোরিডায় বসবাসরত বাংলাদেশিরা একে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করে দ্রুত ঘাতককে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, তারা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘাতককে শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ইতিমধ্যে সন্দেহভাজন একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এদিকে ইয়াসমিনের মৃত্যুসংবাদ লক্ষ্মীপুরের কুশাখালীতে পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, অত্যন্ত পরিশ্রমী ও পরোপকারী ইয়াসমিন পরিবারের স্বচ্ছলতার আশায় প্রবাসে পাড়ি দিয়েছিলেন। তাঁর এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশি কনস্যুলেট জেনারেল এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে। কনস্যুলেট সূত্র জানিয়েছে, তারা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এই ঘটনার সরাসরি নিন্দা জানানোর বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তাঁরা আশা করছেন, এর ফলে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন দ্রুত অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবে।


