জামালপুর সদর উপজেলায় আড়াই বছর আগে স্বামীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যাককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
আজ বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় ঘোষণা দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- সদরের পাকুল্যা মধ্যেপাড়া গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে মো. ফারুক হোসেন (২৮), আলী আকবরের ছেলে মুনসুর আলী (২৫), একই গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে ফেরদৌস হোসেন (২০)। তারা সবাই পলাতক রয়েছেন। অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস পেয়েছেন একই এলাকার জামাল উদ্দিনের ছেলে জাহিদুল ইসলাম।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ‘২০২৩ সালের ৭ জুলাই ভুক্তভোগী গৃহবধূ ও তাঁর স্বামী ব্যবসায়িক কাজে রশিদপুর চৌরাস্তা এলাকার একটি বাড়িতে যান। সেখান থেকে রাত সাড়ে ৯টার দিকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে পাকুল্লা ভাঙ্গুনীঘাট এলাকায় পৌঁছালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা তাঁদের গতিরোধ করে। এ সময়ে তারা গৃহবধূর স্বামীকে গাছের সঙ্গে হাত-পা বেঁধে রেখে ওই নারীকে তুলে নিয়ে গিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। পরে থানায় মামলা হয়। পরে পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। আদালতে ভুক্তভোগী নারীসহ চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড এবং একই সঙ্গে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন।’
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান, ২০২৩ সালের ১৯ জুলাই রাতে সদর উপজেলার পাকুল্লা এলাকায় স্বামীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করেন আসামিরা। এ ঘটনার পরদিন ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা করেন। চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে আসামিদের অনুপস্থিতিতে আদালত তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং একজনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। এছাড়াও দণ্ডপ্রাপ্তদের এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
পিপি বলেন, দীর্ঘ তদন্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আদালত তিনজনকে যাবজ্জীবন ও একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। বর্তমানে দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিই পলাতক রয়েছেন।



