ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবনে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের সমর্থকদের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে মনির হোসেন (৪৫) ও মহিদুল ইসলাম (৩৫) নামের দুইজন আহত হয়েছেন। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের পর দুই পক্ষই নগর ভবন ছেড়েছেন।
আজ মঙ্গলবার (২৫ জুন) দুপুর ১২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে বলে জানাগেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে শপথ পড়ানোর দাবিতে টানা ৩৯ দিন নগর ভবনে তালা দিয়ে রেখেছিলেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নেতা আরিফ চৌধুরী ও তার অনুসারীরা। এ ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়ে তালা খুলে দিতে নির্দেশ দেন ইশরাক।
পরে সোমবার (২৩ জুন) নগর ভবনের তালা খুলে দেন আরিফ চৌধুরীরা। কিন্তু প্রশাসক ও প্রকৌশল দপ্তরের কর্মকর্তাদের কক্ষগুলোতে তারা তালা লাগিয়ে রাখেন। ওই কর্মকর্তারা যাতে অফিসে ঢুকতে না পারেন সেজন্য সারাদিন নগর ভবনে মহড়া দেন আরিফ চৌধুরী। ফলে গতকাল তাদের কেউ অফিস করতে পারেননি।
আজ মঙ্গলবার (২৪ জুন) সকাল ৯টার পরপর নগর ভবনে অবস্থান নেন আরিফ চৌধুরী ও তাঁর অনুসারীরা। এসময় তারা ইশরাক হোসেনকে মেয়র পদে শপথ পড়ানো ও স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন। এসময় তাদের ধাওয়া করেন শ্রমিক দলের অন্য পক্ষের নেতা আরিফুজ্জামান প্রিন্সের অনুসারীরা। তখন তাদের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে নগর ভবন থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান আরিফ চৌধুরী। এসময় তার সঙ্গে ইশরাক সমর্থক বহিরাগত ব্যক্তিরাও ছিলেন।
ডিএসসিসির শ্রমিকদলের নেতারা জানান, আগে শ্রমিকদলের দু’টি পক্ষই বিএনপি নেতা ইশরাকের অনুসারী ছিলেন। কিন্তু ইশরাকের শপথ কেন্দ্র করে আরিফুজ্জামান প্রিন্স দূরে থাকেন। তিনি নগর ভবনে তালা দিয়ে নাগরিকদের ভোগান্তির বিরোধিতা করেন। এছাড়া নগর ভবনে শ্রমিক দলের দুই পক্ষের দু’টি কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে আরিফুজ্জামান প্রিন্সের কমিটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর রয়েছে। তিনি এ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এবং নগর ভবনের কেয়ারটেকার। কিন্তু আরিফ চৌধুরী যে সংগঠনের সভাপতি তার কোনো রেজিস্ট্রেশন নেই।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “আহত অবস্থায় দুই যুবককে জরুরি বিভাগে আনা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের সমর্থক এবং তার দুটি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের সময় আহত হয়েছেন। বর্তমানে তাদের চিকিৎসা চলছে।”
ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো স্পষ্ট না হলেও, প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ইশরাকের অনুসারী দুই পক্ষের মধ্যে নগর ভবনের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন চলছিল। আজ তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এদিকে এই ঘটনার পর রাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা বেড়ে যায় নগর ভবন এলাকায়। সংঘর্ষের পরপরই নিরাপত্তা জোরদার করে পুলিশ।
বিকেলে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন ঢাকার নাগরিক সেবা, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অব্যবস্থাপনা এবং চলমান জনঅসন্তোষ নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনের ডাক দিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনটি আজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
অনেকের মতে, এই সংঘর্ষ শুধু অভ্যন্তরীণ বিরোধ নয়, বরং বৃহৎ রাজনৈতিক চিত্রেরই একটি প্রতিফলন, যেখানে বিএনপির অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব ও প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে।



