বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আর ঢাকায় ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র (ডিএসসিসি) ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।
বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বনশ্রীতে ২ নম্বর ওয়ার্ডের উন্নয়ন উৎসবে এ কথা বলেন তিনি।
২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. মকছুদ হোসেন, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর ফারজানা ইয়াসমিন বিপ্লবী প্রমুখ বক্তব্য দেন।
আরও পড়ুন- এক মঞ্চে অনিল কাপুর-শেহনাজ গিলদের সঙ্গে আরিফিন শুভ
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র তাপস বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিব লজ্জায় ঠাকুরগাঁওয়ে গিয়ে মুখ লুকিয়েছেন। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ বর্তমান সরকারের উন্নয়ন, এসব তাদের মস্তিষ্কে আসে না। যে নামগুলো এদেশের মানুষের কাছে অপরিচিত ছিল, সেই নামগুলোর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যারা উন্নয়ন দেখে না, তারা উন্নয়ন করতে পারে না। যাদের চোখে উন্নয়ন নেই, যারা স্বপ্ন দেখতে পারে না, তারা কখনও সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারবে না।’
বিএনপি নেতাদের সমালোচনা করে মেয়র তাপস বলেন, ‘২৯ বছর তারা ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু তারা জনগণের উন্নয়ন করতে পারেনি। তাদের চোখে কোনোদিনও উন্নয়ন দেখা যাবে না। উন্নয়ন দেখতে হলে সাধারণ জনগণের চোখ দিয়ে দেখতে হবে। তারা ২৯ বছর সরকারে ছিল। ২৯ বছর তারা এ দেশকে ব্যর্থরাষ্ট্রে পরিণত করেছে।’
আরও পড়ুন- এক দফা দাবিতে ১৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা বিএনপির
ডিএসসিসি মেয়র বলেন, ‘একসময় তারা বলেছিল, আওয়ামী লীগ ১০০ বছরেও ক্ষমতায় আসতে পারবে না। আজ তারা কাঁন্দে। এখন ভাবে, ১০০ বছরেও বুঝি আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে নামানো যাবে না। তারা বলেছিল, আওয়ামী লীগ ৩০টি আসনও পাবে না। ২০০৮ সালে বাঙালি জাতি তাদের দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ, অপকর্মের বিরুদ্ধে শিক্ষা দিয়ে তাদেরকে আসন দিয়েছিল মাত্র ২৯টা। ৩০টা আসনও তারা পায় নাই।’
তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালের নির্বাচনে তারা এসেছিল। তখন আর নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের কথা বলে নাই। তখন আর বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির কথা বলে নাই। এখনও বলে না। বেগম খালেদা জিয়াকে তারা ভুলে গেছে। মাইনাস করে ফেলছে।’
তাপস বলেন, ‘বিএনপির এখন আর খালেদা জিয়াকে দরকার নাই। তারা এখন নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের কথা বলে। কিন্তু একসময় তারাই নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার মানে নাই। তারা একেক সময় একেক কথা বলে। এখন বলে, আমরা নাকি পাঁচটি আসনও পাবো না। অথচ ২০১৮ সালের নির্বাচনে তারা সর্বসাকুল্যে ৮টি আসন পেয়েছিল। ১০টি আসনও জুটে নাই। সুতরাং এসব কথা বলে বাঙালিকে আর বিভ্রান্ত করা যাবে না।’
আরও পড়ুন- আ.লীগ জনগণের দল, তৃণমূল পর্যন্ত আমাদের শেকড় আছেঃ কৃষিমন্ত্রী
তিনি বলেন, ‘বিএনপি এবার যদি নির্বাচনে না আসে; তার মানে হলো তারা বুঝে গেছে যে, একটা আসনও পাবে না। জনগণ তাদের আবারও প্রত্যাখ্যান করবে বুঝতে পেরেই নির্বাচনে আসতে চায় না। যেটা তারা ২০১৪ সালে করেছিল। তারা জানত, নির্বাচনে আসলে ভরাডুবি হবে সেজন্য ইজ্জত বাঁচাতে নির্বাচনে আসেনি। ভেবেছিল নির্বাচনকে প্রতিরোধ করবে, প্রতিহত করবে। সে শক্তি তাদের নাই। সেটা তারা করতে পারে নাই।’
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান, সচিব আকরামুজ্জামান, ২ নম্বর অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা সোয়ে মেন জো, কাউন্সিলরদের মধ্যে ১ নম্বর ওয়ার্ডের মোঃ মাহবুবুল আলম, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোঃ সিরাজুল ইসলাম ভাট্টি, ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোঃ জিয়াউল হক ও ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের মোঃ আজিজুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।



