সারা দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় একদিনে সর্বোচ্চ ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট মারা গেলেন ১০০ জন।
শনিবার (১৫ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার (১৪ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে শনিবার (১৫ জুলাই) সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় ১ হাজার ৬২৩ জন। এর মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা ১ হাজার ১৬৮ জন। ঢাকার বাইরের বাসিন্দা ৪৫৫ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা ১৯ হাজার ৪৫৫ জন। এ ছাড়া সারা দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে ৪ হাজার ৯৪৭ জন রোগী ভর্তি আছেন। এর মধ্যে ঢাকার ৫৩টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে ৩ হাজার ২৩৮ জন এবং অন্যান্য বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ৭০৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।
আরও পড়ুন- এক যুগ পর টিআর প্রকল্পের আত্মসাৎ কৃত টাকা আদায়
অন্যদিকে, এ সময়ের মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৪ হাজার ৪০৭ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা নয় হাজার ৭৯৩ জন এবং ঢাকার বাইরের চার হাজার ৬১৪ জন। আর এ সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশে মারা গেছেন ১০০ জন।
মৃত্যুর জন্য বিগত বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গু হেমোরোজিক ফিবার ও শক সিনড্রোমকে দায়ী করে রোগী ও স্বজনদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছেন জুলাইয়ের তুলনায় আগামী আগস্ট এবং সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
গত বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৮১ জনের মৃত্যু হয়। তবে এবার ডেঙ্গু ভয়াবহ রূপ ধারণ করায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।



