লক্ষ্মীপুরে ফিলিং স্টেশনগুলোতে অনিয়ম, অতিরিক্ত দাম আদায় ও পরিমাপে কারচুপির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অবশেষে এসব অনিয়ম রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে, উপজেলার ৯টি ফিলিং স্টেশনে সরাসরি নজরদারির জন্য ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রশাসন প্রথমবারের মতো মাঠপর্যায়ে সরাসরি তদারকি জোরদার করলো বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
যেসব ফিলিং স্টেশনে এই নজরদারি কার্যক্রম চালানো হবে, সেগুলো হলো-
মেসার্স ধরনী ফিলিং স্টেশন, ঢাকা-রায়পুর রোড; মেসার্স মোল্লাসন হক ফিলিং স্টেশন, উত্তর তেমুহনী; মেসার্স সিমা পেট্রোল পাম্প, হাজিরপাড়া; মেসার্স জনতা অটো মোবাইল, মেইন রোড; এম এইচ ফিলিং স্টেশন, মজুচৌধুরীরহাট; আলী ফিলিং স্টেশন, চকবাজার, ফিরোজ আলম পেট্রোল পাম্প, দক্ষিণ মজুচৌধুরীরহাট; রোকেয়া ফিলিং স্টেশন, দত্তপাড়া এবং নুরুল ও হোসেন ফিলিং স্টেশন, মান্দারী এলাকায় অবস্থিত।
প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, এসব স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা প্রতিদিন তেলের নির্ধারিত মূল্য তালিকা অনুযায়ী বিক্রি হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করবেন। পাশাপাশি তেল পরিমাপে কোনো অনিয়ম বা কারচুপি হচ্ছে কিনা তা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবেন।
কোনো ফিলিং স্টেশনে অতিরিক্ত মূল্য আদায়, কম তেল দেওয়া কিংবা অন্য কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেল নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগ বেড়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নির্ধারিত ৫ টাকা বা নির্ধারিত হারের পরিবর্তে বেশি টাকা আদায় এবং মাপে কম দেওয়ার অভিযোগ বারবার উঠে এসেছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, অনেক সময় বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়েই তেল নিতে হয়েছে। কেউ প্রতিবাদ করলে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকারও হতে হয়েছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমরা অনেকদিন ধরে বেশি দামে তেল কিনছি। এখন যদি প্রশাসন ঠিকভাবে নজরদারি করে, তাহলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে।”
দায়িত্বপ্রাপ্ত ‘ট্যাগ অফিসার’রা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিয়মিতভাবে তাদের নির্ধারিত স্টেশনগুলোতে উপস্থিত থেকে তদারকি চালিয়ে যাবেন বলে জানানো হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাদের অধিকার রক্ষা করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


