চকবাজার থেকে মাদাম ব্রিজ পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার খাল হতে পারে শহরের নতুন লেক ও পার্ক, নাগরিক জীবন ও পর্যটনের অনন্য উদাহরণ।
লক্ষ্মীপুর শহরের প্রতিটি খাল, প্রতিটি নল-নালা শুধু পানি বহনের মাধ্যম নয়; এটি শহরের নিঃশ্বাস, নাগরিক জীবনের প্রাণ। কিন্তু আজ সেই নিঃশ্বাস দমবন্ধ করছে—দখল, ময়লা এবং অবহেলার বোঝায়। বিশেষ করে রহমতখালী খাল, শহরের প্রাণনালী হিসেবে পরিচিত, আজ সঙ্কটের মুখে।
চকবাজার ব্রিজ থেকে মাদাম ব্রিজ পর্যন্ত এই দেড় কিলোমিটার খাল পুনঃউদ্ধার করা গেলে, এটি শুধু জলাধার হবে না; হবে শহরের পরিবেশ, নগর জীবন এবং পর্যটনের এক নতুন মানদণ্ড। আধুনিক লেক, জগিং স্টেপ, ছায়াময় গাছের সারি এবং পার্ক—এই খালকে এমনভাবে সাজালে শহরের মানুষের দৈনন্দিন জীবন হবে আরও প্রশান্ত।
ইতোমধ্যেই লক্ষ্মীপুরের সন্তান ও পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি জেলার বিভিন্ন খাল দখলমুক্ত ও পরিস্কার করার উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে শহরের প্রাণকে পুনর্জীবিত করতে চকবাজার থেকে মাদাম ব্রিজ পর্যন্ত রহমতখালী খালকে লেক ও পার্কে রূপান্তর করা এক বাস্তব প্রয়োজন।
পরিষ্কার খালের ধারে হাঁটতে আসা মানুষ, জগিং করতে আসা যুবক-যুবতী, ছায়ায় বিশ্রাম নেওয়া শিশু ও বৃদ্ধ—সবাই নতুন করে অনুভব করবে নগরের সৌন্দর্য। যানজট কমবে, পরিবেশের ভারসাম্য ফিরে আসবে, আর শহরের হৃদয়ে জাগবে স্বচ্ছ, প্রাণবন্ত স্থান। প্রশাসনের চোখে এটি হয়তো কেবল জলবিচ্ছিন্ন স্থান, কিন্তু নাগরিকের চোখে এটি হলো শহরের স্বপ্নের দৃশ্য।
চকবাজার থেকে মাদাম ব্রিজ পর্যন্ত রহমতখালী খালের দুইপাশের পুনঃরূপায়ণ শুধু পরিবেশগত উন্নতি নয়; এটি মানুষের জীবনমান বৃদ্ধির প্রতীক। নিরাপদ, সুস্থ এবং প্রাকৃতিক বিশ্রামের সুযোগ শহরবাসীর হাতে তুলে দেবে এই উদ্যোগ।
লক্ষ্মীপুরবাসী আশা করছে—দুই মাসের মধ্যে এই দৃষ্টান্তমূলক পুনঃউদ্ধার বাস্তবায়িত হলে, শহর এবং মানুষ, প্রকৃতি এবং নগরায়ন—সব মিলিয়ে এটি হবে বাংলাদেশের ছোট শহরগুলোতে পরিবেশ ও নগর উন্নয়নের নতুন মানদণ্ড। রহমতখালী খাল শুধু পানি বহন করবে না; এটি হবে লক্ষ্মীপুরের প্রাণ, সমৃদ্ধি এবং স্বপ্নের প্রতীক।

