দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে রায়পুর শহরে। শহরের প্রধান সড়ক, নতুনবাজার থেকে মহিলা কলেজ সড়ক, খাজুরতলা সড়ক, টিএনটি সড়কসহ বেশির ভাগ সড়কই পানির নিচে। পানি ঢুকেছে বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে। এতে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন নাগরিকেরা। পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে এবং পানি নিষ্কাশনের নালাগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টি হলেই শহরবাসীর দুর্ভোগ দেখা দেয়। এনিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকেদায়ীকরেন স্থানীয়রা।
এছাড়াও- উপজেলার দক্ষিন চরবংশী ইউপির মেঘনা নদী সংলগ্ন মিয়ারহাট ও হাজিমারাসহ ৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। চলাচলে চরম দুর্ভোগে আছেন আশ্রয়নবাসী।
সরেজমিন দেখা যায়, বৃষ্টির পানিতে ডুবেছে বিভিন্ন সরকারি অফিস। জলাবদ্ধতায় ডুবে আছে উপজেলা চেয়ারম্যান কার্যালয়ের নিচতলা। প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও পল্লী উন্নয়ন ব্যাংক।, জীবিকার তাগিদে বের হওয়া শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন।
পৌর এলাকার কাঞ্চনপুর গ্রামের বাসিন্দা শহীদ পাটোয়ারীসহ একাধিক বাসিন্দা জানান, জলাবদ্ধতা রায়পুর পৌরশহরে নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ যেন দেখার কেউ নেই! পৌরসভা ৪০ বছরের পুরোনো। এখনও সামান্য বৃষ্টিতে এখানকার বাসিন্দাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। রায়পুর প্রথম শ্রেণির পৌরসভার নাগরিকদের যদি এ অবস্থা হয় তাহলে বাকিদের জানি কী অবস্থা !
লক্ষ্মীপুর আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে শুক্রবার (২ আগস্ট) দুপুর ২টা পর্যন্ত গত ৪০ ঘণ্টায় দেশের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয় রায়পুরে। সেখানে বৃষ্টি হয়েছে ২৭৬ মিলিমিটার। এরপরে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে পটুয়াখালীতে। সেখানে বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ২১৬ মিলিমিটার।
রায়পুর পৌরসভার মেয়র গিয়াস উদ্দিন রুবেল ভাট জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্য অতি দ্রুত পানি নিষ্কাশনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাজ চলমান। আর পানি চলাচলের খাল ও যে সকল নালা অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে দখলদাররা সেসব উচ্ছেদের জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


