ডিজিটালভাবে আধুনিক ভবনে চিঠি আদান-প্রদানসহ বিভিন্ন সেবা দিতে নতুনভাবে রায়পুরে প্রধান ডাকঘর ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এক বছরের মধ্যে ৮৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ব্যয়ে একতলা বিশিষ্ট ভবনটি কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সাড়ে তিন বছরেও শেষ হচ্ছে না। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, ঠিকাদারের নিন্মমানের কাজ ও ডাক বিভাগের প্রকৌশলের তদারকির অবহেলায় ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হচ্ছে না।
অপরদিকে, নবনির্মিত চলমান ভবনটির সামনে বাউন্ডারি দেয়াল সীমানার ভেতরে নির্মাণ করতে পৌরসভার মেয়র গিয়াস উদ্দিন রুবেল ভাটের নির্দেশনা আরেক জটিলতার সৃস্টি হয়।
তবে-এবিষয়ে তয় ঠিকাদার বলছেন, চরম অর্থ সংকটের কারনে ভবনের কাজ ধীরগতিতে হচ্ছে। চট্রগ্রামের দুই প্রকৌশলী বলেছেন, তিনজন ঠিকাদারের অনিয়মের কারনেই ডাকঘর ভবন নির্মাণ কাজ ধীরগতিতে হচ্ছে।।
রায়পুরে শহরের মাছবাজার সংলগ্ন উপজেলা পোস্ট অফিসসহ তাদের দুটি শাখা অফিস শাখা রয়েছে রাখালিয়া ও হায়দরগঞ্জ বাজারে। তাদের ১০ ইউনিয়নে উপশাখা রয়েছে ১৫টি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আধুনিকভাবে ডিজিটাল সেন্টার তৈরিতে ২০২১ সালে নতুন ভবন তৈরির উদ্যোগ নেয় সরকার। সেই লক্ষ্যে ২০১৯-২০ সালে প্রকল্পে রায়পুর উপজেলায় শুরু হয় পোস্ট অফিস ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেন ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফনেক্স ইন্টারন্যাশনাল। ভবন নির্মাণের ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। কিন্তু সাড়ে তিন বছর পার হতে চললেও আজও ভবন নির্মাণের কাজই তো শেষ হচ্ছেনা।
একাজের জন্য ঢাকার ডাকবিভাগ থেকে সৈকত নামের ফেনীর এক ঠিকাদারকে দিয়ে পুনরায় ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। কিন্তু এই ঠিকাদারও চার মাস ধরে নিম্নমানের কংকর (ইট, সিমেন্ট ও রড) দিয়ে ছাদ ঢালাই দিয়ে কাজ করে তা আবারও বন্ধ করে চলে যায়। পরে আবার তয়বারের মত শাকিল নামের নোয়াখালির খলিফারহাট এলাকার এক ঠিকারদারকে দিয়ে ভবনের কাজ শুরু করা হয়। কিন্তু খসরু ৬ মাস কিছু কাজ করার পর গত ২৫ রমজান কাজ ফেলে চলে যান। এই ধীরগতিতে হতাশ ডাকবিভাগ ও স্থানীয়রা।
ডাক বিভাগের লক্ষ্মীপুর পরিদর্শক আবদুর রহমান ও রায়পুর পোস্ট মাস্টার অমর কৃষ্ণ দাশ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করে বলেন, ভাল করে লেখেন। গত চার বছর রায়পুর শহরের মধ্যবাজারে দোতলায় একটি কক্ষে সেবা দেয়া হচ্ছে। মালামালগুলো সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।।
রায়পুর পোস্ট অফিস ভবন নির্মাণ কাজের ৩য় ঠিকাদার খোশরু জানান, মুলত কাজটি পায় কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন ৮৬ লাখ টাকায়। পরে সাব কন্ট্রাক নেয় সৈকত নামের ফেনির আরেক ঠিকাদার। তাদেরকে টাকা না দেয়া কাজ ফেলে চলে গেছে। এখন ডাকবিভাগ আমাকে দিয়ে কাজ করালেও আমাকে টাকা না দেয়া তা বন্ধ রাখা হয়েছে। সহসাই কাজ শুরু করব।
ডাকবিভাগের চট্রগ্রাম সার্কেলের প্রকৌশলী শাকিল আহম্মেদ বলেন, ভবনটি নির্মাণে ঠিকারদের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে সহসাই নির্মাণ কাজ শুরু হবে।।
ডাকবিভাগের ঢাকার প্রকল্প পরিচালক শামিমুর রাজি মোবাইলে জানান, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করা হবে।


