লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মেঘনা নদীর অভয়াশ্রমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাটকা ধরার দায়ে ১১ জেলেকে আটক করেছে টাস্কফোর্স। তাঁদের মধ্যে ৯ জেলেকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বাকি দুই জেলে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
বুধবার (৩১ মার্চ) ভোরে উপজেলার মেঘনা নদীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দণ্ডাদেশ দেন উপজেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিগার সুলতানা।
অভিযান শেষে উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহফুজুল হাসনাইন জানান, বুধবার ভোরে উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের সাজু মোল্লার মাছঘাট, আলতাফ মাস্টার ঘাট, সুইচগেট, রাহুল ঘাট ও টুনুর চর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় জাটকা শিকাররত অবস্থায় ১১ জেলেকে আটক করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে জব্দ করা হয় ৭০ কেজি জাটকা, ৩ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও তিনটি মাছ ধরার নৌকা।
দণ্ডপ্রাপ্ত জেলেরা হলেন—মো. দেলোয়ার (৬৫), মো. আলাউদ্দিন (৪৯), রুহুল আমিন মোল্লা (৫০), রাজিব হোসেন (৩৫), মো. শাহিন (১৬), দেলোয়ার (২৩), সাইফুল ইসলাম (২৫), মো. রবিউল (২২) ও জাকির গোড়ানি (৩৫)। তাঁদের সবার বাড়ি বরিশালের হিজলা উপজেলার চরতরবসুনিয়া গ্রামে। এ ছাড়া বয়স কম হওয়ায় মো. সোলায়মান (১৫) ও মো. রাব্বিকে (১৪) মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
মৎস্য কর্মকর্তা আরও জানান, জব্দ করা জাটকা স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে এবং কারেন্ট জালগুলো পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, জাটকা রক্ষায় মার্চ ও এপ্রিল—এই দুই মাস লক্ষ্মীপুর সদর, রায়পুর এবং চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীর প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকাকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করেছে সরকার। এই সময়ে অভয়াশ্রম এলাকায় ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা, পরিবহন, মজুত ও কেনাবেচা নিষিদ্ধ।


