চলমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ কেন্দ্রে তিনি ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্যানুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন ভোটার ২৯৯টি সংসদীয় আসনে তাদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় তারা এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না, তবে মোট ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। নির্বাচনে অংশ নেওয়া ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৮১ জন নারী এবং ২৭৫ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপি সর্বোচ্চ ২৯১টি আসনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে লড়ছে। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৫৮টি আসনে ‘হাতপাখা’, জামায়াতে ইসলামী ২২৯টি আসনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ এবং জাতীয় পার্টি ১৯৮টি আসনে ‘লাঙ্গল’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তরুণদের নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপি ৩২টি আসনে ‘শাপলা কলি’ প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছে।
এবারের নির্বাচনে ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়াটি গতানুগতিক পদ্ধতির চেয়ে কিছুটা ভিন্ন ও বিস্তৃত। ভোটারদের হাতে দুটি পৃথক ব্যালট পেপার দেওয়া হচ্ছে; একটিতে তারা সংসদীয় আসনের প্রার্থী নির্বাচন করছেন এবং অন্যটিতে সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তন বা ‘জুলাই সনদ’ অনুমোদনের প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দিচ্ছেন।
সারাদেশে মোট ৪২ হাজার ৬৫৯টি ভোটকেন্দ্রের ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি বুথে ভোটগ্রহণ চলছে। এর মধ্যে নারী ভোটারদের জন্য ১ লাখ ২৯ হাজার ৬০২টি এবং পুরুষদের জন্য ১ লাখ ১৫ হাজার ১৩৭টি বুথ বরাদ্দ করা হয়েছে। ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ভোটকেন্দ্র রয়েছে এবং একক আসন হিসেবে গাজীপুর-২ এলাকায় কেন্দ্রের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনার জন্য প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারসহ মোট ৮ লাখের বেশি দক্ষ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সারাদেশে মোট ৯ লাখ ৭০ হাজার ৯৪৮ জন নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন রয়েছেন, যার মধ্যে ১ লাখ ৩ হাজার সেনাবাহিনী, ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৩ জন আনসার ও ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন।
এ ছাড়াও নৌবাহিনী উপকূলীয় এলাকায় এবং বিজিবি, র্যাব ও কোস্টগার্ড স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ২ হাজার ১০০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৯৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় রয়েছেন। নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য প্রায় ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন দেশি এবং ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিককে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটগণ নির্বাচনী অপরাধের ক্ষেত্রে ‘সামারি ট্রায়াল’ বা সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতির মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা পাচ্ছেন।



