গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত, নিবন্ধন নং ১১৪
  1. অন্যান্য
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. আইন-বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চাকরি
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম
  12. নির্বাচন
  13. প্রবাসের খবর
  14. ফিচার
  15. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  16. বিনোদন
  17. বিশেষ প্রতিবেদন
  18. রাজনীতি
  19. শিক্ষাঙ্গন
  20. শেখ হাসিনার পতন
  21. সম্পাদকীয়
  22. সারাদেশ
  23. স্বাস্থ্য
  24. হট আপ নিউজ
  25. হট এক্সলুসিভ
  26. হাই লাইটস

এবারের ভোটের দিন হোক নতুন বাংলাদেশের জন্মদিনঃ জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা

জে এম আলী নয়ন
ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ ৮:০৮ অপরাহ্ণ
  • এবারের ভোটের দিন হোক নতুন বাংলাদেশের জন্মদিনঃ জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা

    প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস | ছবিঃ প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

Link Copied!

আসন্নবর্তী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে গণভোটের প্রাক্কালে দেশবাসীর প্রতি সপরিবারে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে একযোগে ভাষণটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, নির্ভয়ে ও দ্বিধাহীন চিত্তে ভোট দিয়ে নাগরিকদেরই নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথ খুলে দিতে হবে, কারণ দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের চাবি জনগণের হাতেই রয়েছে।

ভাষণের শুরুতে প্রধান উপদেষ্টা কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী, শিক্ষার্থী, নারী-পুরুষ, নবীন ও প্রবীণসহ সকল নাগরিককে সালাম ও অভিবাদন জানান। তিনি বলেন, দেশ এমন এক ঐতিহাসিক ও ভবিষ্যৎনির্ধারক মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছে, যখন আর মাত্র একদিন পরই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোট—যা জাতির বহু বছরের আকাঙ্ক্ষার বাস্তব রূপ।

তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের। প্রধান উপদেষ্টার ভাষায়, তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই বাংলাদেশ স্বাধীনতা পেয়েছে এবং স্বৈরাচারবিরোধী দীর্ঘ সংগ্রামের পর আজ আবার গণতান্ত্রিক উত্তরণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। জুলাইয়ের যোদ্ধা ও সাধারণ জনগণের আত্মত্যাগ ছাড়া এই নির্বাচন ও গণভোট কোনোভাবেই সম্ভব হতো না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, প্রতিটি জাতির ইতিহাসে এমন কিছু দিন আসে, যেদিন রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা, গণতন্ত্রের চরিত্র ও আগামী প্রজন্মের ভাগ্য নির্ধারিত হয়। আসন্ন ভোটের দিনটি তেমনই একটি দিন। সেদিন একদিকে নতুন সরকার গঠনের জন্য ভোট হবে, অন্যদিকে গণভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো।

তিনি জানান, আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে এবং এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব ভোটারদের। এই প্রেক্ষাপটে নাগরিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা জাতির সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন।

ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এবারের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা আগের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে শান্তিপূর্ণ হয়েছে। মত ও আদর্শের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও সাধারণ মানুষ দায়িত্বশীল আচরণ করেছে। এ জন্য তিনি রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, ভোটার, নির্বাচন কমিশন, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।

তবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মাঝেও নির্বাচনী সহিংসতায় কয়েকটি প্রাণহানির ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষায়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি প্রাণও ঝরে যাওয়া কোনো সভ্য রাষ্ট্রের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।

প্রধান উপদেষ্টা জানান, এবারের নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বাধিক। স্বতন্ত্রসহ মোট প্রার্থীর সংখ্যা দুই হাজারেরও বেশি, যা আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় ব্যতিক্রমী।

তিনি বলেন, এটি কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়—এটি একটি গণঅভ্যুত্থানের পর প্রথম জাতীয় নির্বাচন। দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, বৈষম্য, বঞ্চনা ও অবিচারের বিরুদ্ধে জনগণের যে জাগরণ, এই নির্বাচন তার সাংবিধানিক প্রকাশ। রাজপথের দাবি এবার ব্যালটের মাধ্যমে উচ্চারিত হবে।

নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু জনপ্রতিনিধি নয়—এই ভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে বাংলাদেশ কোন পথে এগোবে: বৈষম্যহীন ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার দিকে, নাকি পুরোনো ক্ষমতাকেন্দ্রিক কাঠামোর দিকে।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ফলাফল যাই হোক না কেন, জাতির বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। বিজয় ও পরাজয়—উভয়ই গণতন্ত্রের অংশ। নির্বাচনের পর সবাইকে একসঙ্গে নতুন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠনে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

ভাষণে বিশেষভাবে তরুণ ও নারী ভোটারদের কথা তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, গত ১৭ বছর ধরে ভোটাধিকার থাকলেও বহু তরুণ ও নারী বাস্তবে ভোট দিতে পারেননি। ভোটের মুখোশ থাকলেও প্রকৃত ভোটাধিকার ছিল না। তবুও তারা আশা ছাড়েনি, আন্দোলন ও স্বপ্নে নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা লালন করেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে জুলাই গণঅভ্যুত্থান—সব ক্ষেত্রেই নারীরা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। নারীরাই দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। দীর্ঘদিন রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে মত প্রকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকার পর এই নির্বাচন তাদের জন্য এক নতুন সূচনা।

তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই ভোটই তাদের প্রথম প্রকৃত রাজনৈতিক উচ্চারণ। ভয়কে পেছনে রেখে সাহস নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি ভোট শুধু সরকার গঠন করবে না—এটি ১৭ বছরের নীরবতার জবাব এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণের রায় হয়ে উঠবে।

নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সরকারের প্রস্তুতির কথাও তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি জানান, রেকর্ডসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসম্পন্ন সশস্ত্র বাহিনী, সিসি ক্যামেরা, বডি-ক্যাম, ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড ব্যবহারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে ভোটাররা নিরাপদে ভোট দিতে পারেন।

এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে সরকারি কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও কারাগারে থাকা যোগ্য নাগরিকদের জন্য পোস্টাল ব্যালট চালু করা হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ভোটাধিকার কোনো দয়া নয়—এটি সংবিধানপ্রদত্ত অধিকার। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা শুধু সরকারের নয়, প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, সহিংসতা, ভয়ভীতি, কেন্দ্র দখল, গুজব ও অপপ্রচার কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। ইতিহাস প্রমাণ করে, প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন শেষ পর্যন্ত দেশের সর্বনাশ ডেকে আনে।

গুজব ও অপতথ্য ছড়ানোর বিষয়ে সতর্ক করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, একটি চিহ্নিত মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। যাচাই ছাড়া তথ্য শেয়ার না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি নির্বাচনবন্ধু হটলাইন ৩৩৩ নম্বরে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর করবে না—এমন গুজবকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে তিনি আশ্বস্ত করেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে দ্রুত দায়িত্ব হস্তান্তর করেই সরকার বিদায় নেবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, সহস্রাধিক প্রাণের বিনিময়ে আজকের এই সুযোগ এসেছে। দেয়ালে দেয়ালে গ্রাফিতিতে লেখা পরিবর্তন ও সংস্কারের দাবি আজ জুলাই জাতীয় সনদের মাধ্যমে রূপ নিচ্ছে।

তিনি জানান, ৩০টির বেশি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জুলাই সনদ প্রণয়ন করেছে। এটি কোনো একক দলের ইশতেহার নয়, বরং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থার দিকনির্দেশনা।

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই ভোট একটি সিল নয়—এটি সন্তানের ভবিষ্যৎ, রাষ্ট্রের কাঠামো ও বহু প্রজন্মের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া জাতীয় রূপান্তর সম্ভব নয়।

ভাষণের শেষ পর্যায়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন শেষে নবনির্বাচিত সরকারের কাছে আনন্দ ও গৌরবের সঙ্গে দায়িত্ব হস্তান্তর করে অন্তর্বর্তী সরকার নিজ নিজ কাজে ফিরে যাবে।

দেশবাসীর প্রতি শেষ আহ্বানে তিনি বলেন, সপরিবারে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিন। আপনার ভোটেই নতুন বাংলাদেশের দরজা খুলবে। তিনি দোয়া করেন, আল্লাহ যেন দেশকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন।

প্রধান উপদেষ্টার কণ্ঠে উচ্চারিত শেষ বাক্য—
“এবারের ভোটের দিন হোক নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন।”

শীর্ষ সংবাদ | নয়ন

জে এম আলী নয়ন

জে এম আলী নয়ন

সাব এডিটর

সর্বমোট নিউজ: 6248

Share this...
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বে-আইনি।
আরও দেখুন