*লক্ষ্মীপুরে বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা, যুবদল কর্মী পলাতক*
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে আনোয়ার হোসেন (৪৫) নামের এক বিএনপি কর্মীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ২ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে মো. ইউসুফ হোসেন নামের এক যুবদল কর্মী এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আনোয়ার হোসেন সাহারপাড়া এলাকার মজিবুল হকের ছেলে। অভিযুক্ত ইউসুফ হোসেন একই গ্রামের এরশাদ মিয়ার ছেলে।
আজ মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সকালে উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের সাহারপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
আনোয়ারের স্ত্রী ফারজানা আক্তার সাথী ও স্বজনেরা জানান, আনোয়ার হোসেন তাঁর শ্যালককে বিদেশে পাঠানোর জন্য একটি সংস্থা থেকে ২ লাখ টাকা নিয়েছেন। এই খবর জানতে পেরে ইউনিয়ন যুবদল কর্মী ইউসুফ হোসেনসহ আরও তিনজন আনোয়ারের কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দু-তিন দিন ধরে আনোয়ারের দোকানে এসে হুমকি দিয়ে যাচ্ছিলেন তাঁরা। আজ সকাল ৭টায় মোটরসাইকেলে করে ইউসুফ ও আরও দুজন দোকানে ঢুকে আনোয়ারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় আনোয়ারকে রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক আমির ফয়সাল জানান, আনোয়ার হোসেনের বুকে ও পেটে বেশ কয়েকটি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল বারী বলেন, তর্কাতর্কির একপর্যায়ে আনোয়ার হোসেনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। হত্যাকারীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
নিহত ও অভিযুক্ত ব্যক্তির দলীয় পরিচয়ের ব্যাপারে জানতে চাইলে ভোলাকোট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুর রহিম মজুমদার জানান, আনোয়ার বিএনপির কর্মী ও ইউসুফ যুবদল কর্মী। তিনি বলেন, এই দুজন বিএনপি বা যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও বড় কোনো পদে নেই।




