লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার শাপলা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে যখন মাঠে-ঘাটে কাজের তেমন সুযোগ থাকে না, তখন প্রত্যন্ত অঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষরা পরিবারের ভরণপোষণের একমাত্র অবলম্বন হিসেবে শাপলা সংগ্রহ ও বিক্রির পথ বেছে নিয়েছে। প্রতিদিন কাকডাকা ভোরে ছোট ছোট কোষা নৌকা নিয়ে কিংবা অনেক ক্ষেত্রে নৌকা ছাড়াই পানিতে নেমে তারা শাপলা সংগ্রহে নামেন।
গ্রামের বাজারগুলোতে শাপলার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে ২০ টাকার বিনিময়ে এক আঁটি শাপলা কিনেই তরকারির আয়োজন করা যায়, যেখানে অন্যান্য সবজি কিনতে ৭০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। তাই গ্রামীণ জনগণের কাছে শাপলা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। নারকেল দিয়ে রান্না করা শাপলা তরকারি যেমন সুস্বাদু, তেমনি শাপলা ভাজিও খাওয়ার উপযোগী। শাপলার মাথার গোটা দিয়ে গ্রামের নারীরা খই ভেজে, যা নিজেরা খাওয়ার পাশাপাশি বাজারেও বিক্রি করেন। প্রায় প্রতিটি বাজারেই দেখা যায়, ১২ থেকে ১৫টি শাপলা একত্রে আঁটি বেঁধে ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেকে আবার মাথায় করে শাপলা নিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে তা বিক্রি করেন।
শাপলা বিক্রেতা ইব্রাহিম মিয়া, সিরাজ মিয়া ও ফজলুল হক জানান, যেদিন শাপলা বিক্রি করতে পারেন, সেদিন তাদের ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত আয় হয়। তবে প্রতিদিন এ কাজ করা সম্ভব হয় না; কারণ শাপলা সংগ্রহ বেশ কষ্টসাধ্য এবং প্রতিদিন ভোরে ওঠাও সবার পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না।
স্থানীয় ভোলা কোট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম মজুমদার বলেন, কাজের অভাবে এসব মানুষ শাপলা বিক্রির ওপর নির্ভর করছে। তারা কোনোমতে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন পার করছে। আসলে এ সময় তাদের সাহায্য করার মতো উপায়ও সীমিত।
রামগঞ্জ সরকারি হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার ফয়সল ইসলাম জানান, শাপলা শুধু আমাদের জাতীয় ফুলই নয়, এটি একটি পুষ্টিকর জলজ সবজি। এতে রয়েছে প্রচুর ক্যালসিয়াম, ভিটামিন, খনিজ পদার্থ, প্রোটিন ও খাদ্যআঁশ, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং হজম শক্তি উন্নত করতে সহায়তা করে।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম রবিন শীষ বলেন, বর্ষাকাল গ্রামীণ খেটে খাওয়া মানুষের জন্য সবচেয়ে কষ্টকর সময়। তখন কাজ না থাকায় তারা মাঠঘাট ও জলাশয় থেকে শাপলা তুলে এনে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে। তিনি বলেন, যদি কোনো বরাদ্দ আসে তবে এসব অসহায় মানুষের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তা বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি তিনি বিত্তবানসহ সমাজের সকলকে এসব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।





