অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সিরাজগঞ্জে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের নিকট দুই শতাধিক অস্ত্র জমা দিয়ে তিন শতাধিক সর্বহারা ও চরমপন্থী দলের নেতা ও সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন।
রবিবার (২১ মে) দুপুরে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানায় অবস্থিত র্যাব-১২ সদর দপ্তরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে তারা আত্মসমর্পণ করেন।
জানা গেছে, ৩১৫ জনের মধ্যে পাবনা জেলার ১৮০ জন, সিরাজগঞ্জের ১১, টাঙ্গাইলের ৭৪, রাজবাড়ীর ৫৪, মেহেরপুরের দু’জন, কুষ্টিয়া ও বগুড়ার একজন চরমপন্থি রয়েছেন।
আরও পড়ুন- এই জন্মের দূরত্বটা, পরের জন্মে চুকিয়ে দেবঃ জয়া
প্রায় দুই দশক ধরে চরমপন্থীদের দমনে কাজ করছে র্যাব। বন্দুক যুদ্ধে শীর্ষ কয়েক নেতার মৃত্যু হলেও থেমে থাকেনি তাদের কর্মকাণ্ড। ২০২০ সালে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জনপদকে চরমপন্থীদের আগ্রাসন থেকে রক্ষায় তাদের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়। র্যাবের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকা বেশ কয়েকটি সক্রিয় দলের নেতা প্রায় ৩ শতাধিক সদস্য ও বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করেছেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘৮০’র দশক থেকে সিরাজগঞ্জসহ দেশের উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিন পশ্চিম কয়েকটি জেলায় যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ থাকায় সর্বহারা ও চরমপন্থীরা এসব এলাকায় ঘাটি তৈরি করে। পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে সন্ত্রাসের জীবন ছাড়ি-আলোকিত জীবন গড়ি- স্লোগানে সর্বহারা-চরমপন্থীরা আলোর পথে ফিরে আসেন। এ অঞ্চলেও সাবেকমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের কাছে শতাধিক সর্বহারা-চরমপন্থী আত্মসর্মপণ করেন।
আরও পড়ুন- ভারতে জি-২০ বৈঠকে যোগ দেবে না চীন-তুরস্ক
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তখন যেমন সবাইকে পুনর্বাসন করেছিলেন তেমনই আজকেও যারা আত্মসমর্পণ করে আলোর পথে ফিরে আসছেন তাদের আর্থিক সহযোগিতা থেকে শুরু করে সার্বিক ও সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে। তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো পর্যালোচনা করে আইনি পদক্ষেপসহ দায়মুক্ত করা হবে।’

পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল), লাল পাতা ও সর্বহারাসহ বেশ কয়েকটি চরমপন্থী দলের ৩১৫ সদস্যের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল আরো বলেন, ‘কেউ যদি মনে করেন আমরা দুর্গম এলাকায় বসে থাকব, অপরাধ করব আর আপনারা ধরতে পারবেন না তাহলে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। র্যাবকে সর্বোচ্চ আধুনিকায়ন করা হয়েছে। র্যাব যেকোনো সময় যেকোনো স্থানে যেকোনো মুহূর্তে অভিযান পরিচালনা করতে পারবে।’
আরও পড়ুন- বান্দরবানে কুকি চিন সন্ত্রাসীদের গুলিতে ২ সেনা সদস্য নিহত
র্যাব জানায়, ‘উদয়ের পথে’ নামে একটি পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে চরমপন্থী পরিবারের ৩০ জন নারী সদস্যকে স্বাবলম্বী করতে হস্তশিল্প প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও মাছ চাষ, গরু বা মুরগীর খামার, রিকশা, সেলাই মেশিন প্রদানের মাধ্যমে চরমপন্থী নেতা ও সদস্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করা হবে।
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় র্যাব-১২’র সদর দফতরে বেলা সাড়ে ১১টায় এ আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেনজীর আহমেদ, স্থানীয় সংসদ সদস্য, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোঃ আমিনুল ইসলাম খান, পুলিশ মহা-পরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, র্যাবের মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি এম খুরশীদ হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন আত্মসমর্পণকারী সর্বহারা পার্টির রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি ফারুক শেখ, টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি সাইদুল ইসলাম।






