গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত, নিবন্ধন নং ১১৪
  1. অন্যান্য
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. আইন-বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চাকরি
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম
  12. নির্বাচন
  13. প্রবাসের খবর
  14. ফিচার
  15. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  16. বিনোদন
  17. বিশেষ প্রতিবেদন
  18. রাজনীতি
  19. শিক্ষাঙ্গন
  20. শেখ হাসিনার পতন
  21. সম্পাদকীয়
  22. সারাদেশ
  23. স্বাস্থ্য
  24. হট আপ নিউজ
  25. হট এক্সলুসিভ
  26. হাই লাইটস

ঝুঁকিতে হাজারো শরণার্থী ও অভিবাসী

শীর্ষ সংবাদ ডেস্ক
মার্চ ২৮, ২০২৬ ১:২৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কানাডায় সদ্য পাস হওয়া ‘বিল সি-১২’ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দেশটির দুই ডজনেরও বেশি মানবাধিকার ও অধিকারকর্মী সংগঠন। তাদের আশঙ্কা, নতুন এই ফেডারেল আইনের ফলে হাজার হাজার শরণার্থী ও অভিবাসী নির্যাতন, সহিংসতা ও অনিশ্চয়তার ঝুঁকিতে পড়বেন। সংগঠনগুলো এই আইনকে শরণার্থী ও অভিবাসীদের অধিকারের ওপর ‘গভীর আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল কানাডা, কানাডিয়ান সিভিল লিবার্টিজ অ্যাসোসিয়েশন এবং কানাডিয়ান কাউন্সিল ফর রিফিউজিসহ বিভিন্ন সংগঠন এই উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাদের মতে, বিল সি-১২ বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সরকারকে এমন এক বিপজ্জনক পথে নিয়ে যাচ্ছে, যেখানে আশ্রয়প্রার্থনার সুযোগ সংকুচিত হবে এবং ব্যক্তিগত তথ্য বিনিময়ের সুযোগ বাড়বে।

আইনে যা আছে
বৃহস্পতিবার পাস হওয়া এই আইনের একটি অন্যতম বিতর্কিত দিক হলো আশ্রয়ের আবেদনের সময়সীমা। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি কানাডায় প্রবেশের এক বছরের বেশি সময় পর আশ্রয়ের আবেদন করলে তিনি ‘কানাডা অভিবাসন ও শরণার্থী বোর্ড’-এ পূর্ণাঙ্গ শুনানির সুযোগ পাবেন না। এর পরিবর্তে তাকে ‘প্রি-রিমুভাল রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট’ প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। অধিকারকর্মীদের মতে, এই প্রক্রিয়াটি শরণার্থীদের সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত দুর্বল ও ‘সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়’।

এছাড়া, সরকার যদি মনে করে যে এটি ‘জনস্বার্থের’ জন্য প্রয়োজন, তবে যেকোনো স্থায়ী বা অস্থায়ী ভিসা, কাজের অনুমতি (ওয়ার্ক পারমিট) ও পড়াশোনার অনুমতি বাতিল করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এই আইনে।

সরকারের যুক্তি
তবে কানাডা সরকার এই আইনকে প্রয়োজনীয় বলে দাবি করছে। অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ব মন্ত্রী লেনা দিয়াব বলেন, “বিল সি-১২ পাসের মাধ্যমে আমাদের অভিবাসন ও আশ্রয় ব্যবস্থাকে আরও ন্যায্য ও কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো শক্তিশালী করা হয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি তাঁর পূর্বসূরি জাস্টিন ট্রুডোর মতোই কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে আবাসন সংকট ও ক্রমবর্ধমান চাপ কমাতে অস্থায়ী ভিসা এবং বিদেশি কর্মী ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমিয়ে আনার নীতি গ্রহণ করেছেন। সরকারি বিভাগ বলছে, এই আইনটি নিয়মিত অভিবাসন প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে আশ্রয় চাওয়ার প্রবণতা কমিয়ে আনবে।

আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
কানাডার এই অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের ওপর নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহলও। চলতি সপ্তাহের শুরুতে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিটি সতর্ক করে বলেছে, বিল সি-১২ শরণার্থী সুরক্ষাকে দুর্বল করতে পারে। কমিটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা প্রার্থীদের জন্য ন্যায্য ও কার্যকর আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি।

ভীতি ও অনিশ্চয়তা
মন্ট্রিয়ালে সম্প্রতি এক সমাবেশে ‘ওয়েলকাম কালেকটিভ’-এর প্রতিনিধি ফ্লাভিয়া লেইভা বলেন, এই আইনের ফলে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, “মানুষ আমাদের কাছে এসে উদ্বিগ্ন হয়ে জিজ্ঞেস করছে তারা থাকতে পারবে কি না। আমরা ভুলে যেতে পারি না যে শরণার্থীরা অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতি থেকে পালিয়ে এসেছে এবং তাদের ফিরে যাওয়ার কোনো জায়গা নেই।”

অধিকারকর্মীরা জানিয়েছেন, এই আইনের বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তাদের অভিযোগ, বর্তমান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের মতো অভিবাসীবিরোধী কঠোর নীতির দিকে ঝুঁকছে, যা কানাডার মানবিক ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।


Editor

Editor

সম্পাদক

সর্বমোট নিউজ: 171

Share this...
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বে-আইনি।
আরও দেখুন