মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানি একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে। একই সময়ে বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের মিলিটারি ঘাঁটির কাছে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বাহরাইনের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয় জরুরি সতর্কতা জারি করে নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কাতার ও বাহরাইন দূতাবাস জানিয়েছে, তাদের কর্মীরা নিরাপদ স্থানে অবস্থান করছেন এবং ওই অঞ্চলে থাকা সব আমেরিকান নাগরিককেও একইভাবে নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দূতাবাস বলেছে, নাগরিকরা তাদের বাসভবন বা অন্য কোনো নিরাপদ স্থানে থাকার সময় খাবার, পানি, ওষুধ এবং অন্যান্য জরুরি জিনিস সঙ্গে রাখবেন, সমাবেশ থেকে দূরে থাকবেন এবং সতর্ক থাকবেন।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল ক্যাটজ দেশটিতে জরুরি অবস্থার ঘোষণা দিয়েছেন এবং নাগরিকদের আগাম ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে ইসরায়েলের কর্মকর্তারা তেহরানসহ ইরানের রাজধানীতে হামলা চালানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী বৃদ্ধি করেছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের নেতারা জেনেভায় ছয় ঘণ্টার আলোচনা চালিয়েও কোনো সমাধান বের করতে পারেননি।
এক উচ্চপদস্থ ইরানি কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, “আমরা ইসরায়েলকে বলছি, যা আসছে তার জন্য প্রস্তুত থাক, আমাদের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্য হবে এবং কোনো সীমারেখা থাকবে না।” তিনি আরও বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে সব আমেরিকান ও ইসরায়েলি সম্পদ এখন বৈধ লক্ষ্যবস্তু। এই আগ্রাসনের পর সবই সম্ভব, এমনকি আগে যা ভাবা হয়নি তারও সমাধান সম্ভব।”
তিনি সতর্ক করেছেন যে, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এমন একটি যুদ্ধ শুরু করেছে যা দীর্ঘমেয়াদে এবং বিস্তৃত প্রভাব ফেলবে। কোনোভাবে ইরানকে ধৈর্য বা আত্মসমর্পণের আহ্বান অগ্রহণযোগ্য এবং কেবলই ইচ্ছাকৃত আশা।”
মধ্যপ্রাচ্যে এই উত্তেজনা নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি দ্রুত পূর্ণমাত্রার সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না। ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেস্কিয়ান বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না। একই সঙ্গে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি জাতিসংঘের নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র চায় না এবং পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।



